পাতা:লঘুগুরু প্রবন্ধাবলী - রাজশেখর বসু.pdf/৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

লঘুগুরু যাইতেছে। আজকাল বহুস্থলে ভােজের রন্ধনে ঘৃতের সহিত আধাআধি ইহা চলিতেছে। ধর্মভীরু ঘিওয়ালার কুণ্ঠা দূর হইয়াছে, এখন আর চর্বি ভেজাল দিবার দরকার হয় না, মহীরুহ-মার্কা মিশাইলেই চলে। সুদূর পল্লীতে অনেক গােয়ালার ঘরে খোঁজ করিলে এই জিনিসের টিন মিলিবে। ঘি ভেজালের প্রথম পর্ব এখন গােয়ালার ঘরেই নিষ্পন্ন হয়। কিন্তু এত গুণ এত সুবিধা সত্ত্বেও এই দ্রব্যের বিরুদ্ধে কয়েকজন উঠিয়া পড়িয়া লাগিয়াছেন। কলিকাতা করপােরেশনে এবং বিভিন্ন প্রাদেশিক কাউনসিলে এ সম্বন্ধে বহু বিতর্ক হইয়া গিয়াছে, অবশ্য তাহাতে কোনও ফল হয় নাই। ঘনীকৃত তৈলের সপক্ষে ও বিপক্ষে যে সকল যুক্তি দেওয়া হইয়াছে তাহার মর্ম এই। সপক্ষ বলেন—খাঁটী ঘি নিশ্চয়ই খুব ভাল জিনিস, তাহার সহিত আমরা প্রতিযােগিতা করিতেছি না। কিন্তু সকলের ঘি খাইবার সংগতি নাই। অনেক খাদ্যদ্রব্য আছে যাহা তেল দিয়া তৈয়ারি করিলে ভাল হয় না, যথা লুচি কচুরি গজা মিঠাই চপ। এইসকল দ্রব্য ভাজিবার জন্য বাজারের ভেজাল ঘিএর বদলে অপেক্ষাকৃত সস্তা অথচ নিদোষ ঘনীকৃত তৈল ব্যবহার করিবে না কেন? ইহাতে ভাল ঘিএর সুগন্ধ নাই সত্য, কিন্তু দুর্গন্ধও নাই, এমন কি কোনও গন্ধই নাই। ইহাতে খাবার ভাজিলে তেলেভাজা বলিয়া বােধ হয় না, বরং ঘি-ভাজা বলিয়াই ভ্রম হয়, অথচ বাজারের ঘিএর দুর্গন্ধ অনুভূত