পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/১৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চরিত্রহীন গিয়েছিলেন,—তিন দিন পরে ফিরে এসে বাড়ির লোকের কাছে গুনতে পেলেন, ব্ৰাহ্মণ বালক উপোস করে আছে। কিছুটি খায়নি। একে ব্রাহ্মণ, তায় অতিথি ! যমত বড় দুঃখিত হয়ে পড়লেন। শেষে অনেক বিনয় করে বললেন, তুমি বাপু তিন দিনের উপোসের বদলে তিনটি বর নাও ! আচ্ছা— কথাট। শেষ করিবার পূর্বেই দিবাকর হো হো করিয়া হাসিয়া উঠিল। কহিল, এ কোন উপন্যাস শুরু করে দিলেন বৌদি ? কিরণময়ী নিরীহভাবে কহিল, কি করবো ঠাকুরপো, যা পড়েছিলুম তাই বলচি । আচ্ছ এমন কাও হতে পারে বলে কি তোমার বিশ্বাস হয় । দিৰাক্ষর জোর দিয়া কহিল, নিশ্চয় না । অসম্ভব। কেন অসম্ভব ? ধৰ্ম্মশাস্ত্রেই ত আছে । থাক ধৰ্ম্মশাস্ত্রে । এ প্রক্ষিপ্ত উপন্যাস । , উপন্যাস কি করে টের পেলে ঠাকুরপো ? বোঁদি, সকলেরই একটু-আধটু বুদ্ধি-শুদ্ধি আছে। আমি বেশী কিছু জানিনে বটে, কিন্তু এ যে মিথ্যা ঘটনা, তাতে আমার কোন সন্দেহ নেই। এমন হতেই পারে না । কিরণময়ী কহিল, ঠাকুরপো, এমন করে সবাই নিজের বিশ্বে-বুদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা দিয়েই সত্য-মিথ্যা ওজন করে । এ ছাড়া আর মানদণ্ড নেই। কিন্তু এ জিনিল সকলের এক নয়—তুমি যাকে সত্য বলে বুঝতে পার, আমি যদি না পারি ত আমাকে দোষ দেওয়া চলে না । দিবাকর তৎক্ষণাৎ কহিল, নিশ্চয় না। কিরণময়ী কহিল, তবেই দেখ ঠাকুরপো, এতেই যখন অমিল হলে দোষ দেওয়া যায় না, তখন, যে জিনিস বুদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা দ্বয়েরই বাইরে, তার সম্বন্ধে মতের কত জনৈক্য হওয়াই সম্ভব । কিন্তু, এ-বিষয়ে আমাদের গরমিল নেই। আমরা দুজনেই মনে করি, এ ঘটনা, আমাদের বুদ্ধির বাইরে, তাই, এটা উপন্যাস, না ঠাকুরপো ? : কিরণময়ী যে তাহাকে কোথায় ঠেলিয়া লইয়া যাইতেছে, তাং ঠিক বুঝিতে না পারিয়া দিবাকর সংক্ষেপে কহিল, হ্যা। কিরণময়ী পুনৰ্ব্বার হাসিয়া উঠিয়া বলিল, বেশ বেশ। কিন্তু, আমার এই উপভাগটির শেখ ভাগটা তোমার হাতের ঐ বইখানিতেই পাবে! দিবাকর চকিত হইয়া কহিল, এই উপনিষদে । কিরণময়ী তেমনি কৌতুক ভরে কহিল, হ্যা, ওতেই পাবে, বেশী খোজা-বুজি করতে হবে না কিন্তু যদি পাও, তখন তোমার প্রতি বর্ণটি অভ্রান্ত সত্য বলে মনে ऐद नीं ॐ - - ነሣሡ