পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (চতুর্থ সম্ভার).djvu/৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কিন্তু ওই এতটুকুর মধ্যেই এবার যেন আপন স্বভাবের প্রতিচ্ছবি দেখিয়াছি । মনে হইয়াছে ওর কাছে আছে আমার মুক্তি, আছে মৰ্যাদা, আছে আমার নিশ্বাস ফেলিবার অবকাশ। ও কখনো আমার সকল চিন্তা, সকল ভালোমন্দ আপন হাতে লইয়া রাজলক্ষ্মীর মত আমাকে আচ্ছন্ন করিয়া ফেলিবে না । ভাবিতেছিলাম কি করিব বিদেশে গিয়া ? কি হইবে আমার চাকরিতে ? নুতন ত নয়—সেদিনেই বা কি এমন পাইয়াছিলাম যাহাকে ফিরিয়া পাইতে আজ লোভ করিতে হুইবে ? কেবল কমললতা ত বলে নাই, দ্বারিকাগোসাইও একান্ত সমাদরে আহবান করিয়াছিল আশ্রমে থাকিতে । সে কি সমস্তই বঞ্চনা, মানুষকে ঠকানো ছাড়া কি এ আমন্ত্রণে কোন সত্যই নাই। এতকাল জীবনটা কাটিল যে-ভাবে, এই কি ইহার শেষ কথা ? কিছুই জানিতে বাকী নাই, সব জানাই কি আমার সমাপ্ত হইয়াছে ? চিরদিন ইহাকে শুধু অশ্রদ্ধা ও উপেক্ষাই করিয়াছি, বলিয়াছি সব ভূয়া, সব ভুল, কিন্তু কেবলমাত্র অবিশ্বাস ও উপহাসকেই মূলধন করিয়া সংসারে বৃহৎ বস্তু কে কবে লাভ করিয়াছে ? গাড়ি আসিয়া হাওড়া স্টেশনে থামিল । স্থির করিলাম রাত্রিটা বাসায় থাকিয়া জিনিসপত্র ষা-কিছু আছে, দেনা-পাওনা যা-কিছু বাকী, সমস্তই চুকাইয়া দিয়া কালই আবার আশ্রমে ফিরিয়া যাইব । রহিল আমার চাকরি, রহিল আমার বর্ম यां७ब्री ! বাসায় পৌছিলাম রাত্রি তখন দশটা । আহারের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু উপায় ছিল না । হাতমুখ ধুইয়া কাপড় ছাড়িয়া বিছানাট ঝাড়িয়া লইতেছিলাম, পিছনে স্বপরিচিত কণ্ঠের ডাক আসিল, বাবু এলেন । সবিস্ময়ে ফিরিয়া চাহিলাম রতন, কখন এলি রে ? এসেচি সন্ধ্যাবেলায় । বারান্দায় তোফা হাওয়া—আলিস্তিতে একটুখানি ঘুমিয়ে পড়েছিলুম। বেশ করেছিলে ? খাওয়া হয়নি ত ? আজ্ঞে না । তবেই দেখচি মুস্কিলে ফেললি রতন। রতন জিজ্ঞাসা করিল, আপনার ? স্বীকার করিতে হইল, আমারও হয় নাই । রতন খুশী হইয়া কহিল, তবে ত ভালই হয়েচে । আপনার প্রসাদ পেন্থে রাতটুকু কাটিশ্বে দিতে পারব।