পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/২৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিলাসী মুখ হইতে বিষ বাহির করা প্রভৃতি কাজগুলা এমনি অবহেলার সহিত করিতে শুরু করিয়াছিলাম যে, সে-সব মনে পড়িলে আজও আমার গা কাপে । আসল কথা হইতেছে এই যে, সাপ ধরা কঠিন নয়, এবং ধরা সাপ দুই-চারি দিন হাড়িতে পুরিয়া রাখার পরে তাহার বিষদাত ভাঙাই হোক অার নাই হোক, কিছুতেই কামড়াইতে চাহে না । চক্ৰ তুলিয়া কামড়াইবার ভান করে, ভয় দেখায়ু, কিন্তু কামড়ায় না । মাঝে মাঝে আমাদের গুরু-শিষ্যের সহি৩ বিলাসী তর্ক করি ত । সাপুড়েদের সবচেয়ে লাভের ব্যবসা হইতেছে শিকড় বিক্ৰী করা, যা দেখাইবামাত্র সাপ পলাইতে পথ পায় না । কিন্তু তার পূৰ্ব্বে সামান্ত একটু কাজ করিতে হইত। যে সাপট শিকড় দেখিয়া পলাইবে, তাহার মুখে একটা লোহার শিক পুড়াইয়া বার-কয়েক ছাকা দিতে হয় । তার পরে তাহাকে শিকড়ই দেখান হোক আর একটা কাঠিই দেখান হোক, সে যে কোথায় পলাইবে ভাবিয়া পায় না। এই কাজটার বিরুদ্ধে বিলাসী ভয়ানক আপত্তি করিয়া মৃত্যুঞ্জয়কে বলিত, দেখ, এমন করিয়া মানুষ ঠকাইয়ে না। মৃত্যুঞ্জয় কহিত, সবাই করে—এতে দোষ কি ? বিলাসী বলিত, করুক গে সবাই । আমাদের ত খাবার ভাবনা নেই, আমরা কেন মিছিমিছি লোক ঠকাতে যাই । 象 আর একটা জিনিস আমি বরাবর লক্ষ্য করিয়াছি । সাপ-ধরার বায়ুনা জাসিলেই বিলাসী নানা প্রকার বাধা দেবার চেষ্টা করিত—আজ শনিবার, অাজ মঙ্গলবার, এমনি কত কি। মৃত্যুঞ্জয় উপস্থিত না থাকিলে সে তো একেবারে ভাগাইয়া দিত, কিন্তু উপস্থিত থাকিলে মৃত্যুঞ্জয় নগদ টাকার লোভ সামলাইতে পারিত না । আর আমার ত একরকম নেশার মত হইয়া দাড়াইয়াছিল । নানা প্রকারে তাহাকে উত্তেজিত করিতে চেষ্টার ত্রুটি করিতাম না । বস্তুতঃ ইহার মধ্যে মজা ছাড়া ভয় যে কোথায় ছিল, এ আমাদের মনেই স্থান পাইত না । কিন্তু এই পাপের দণ্ড আমাকে একদিন ভাল করিয়াই দিতে হইল । সেদিন ক্রোশ-দেড়েক দূরে এক গোয়ালার বাড়িতে সাপ ধরিতে গিয়াছি। বিলাসী বরাবরই সঙ্গে যাইত, আজও সঙ্গে ছিল । মেটে ঘরের মেজে খানিকটা খুড়িতেই একটা গৰ্ত্তের চিহ্ন পাওয়া গেল। আমরা কেহই লক্ষ্য করি নাই, কিন্তু বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে—সে ইেট হইয়া কয়েক টুকরা কাগজ তুলিয়া লইয়া আমাকে বলিল, ঠাকুর, একটু সাবধানে খুড়ে । সাপ একটা নয়, এক জোড়া ত আছে বটেই, হয়ত বা বেশীও থাকতে পারে । ২৬৫ > ०५--७8