পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/৩৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ বৈষ্ণবীর সহিত চাপ-গলায় তুমুল কলহ করিতেছিল। আমরা হঠাৎ প্রবেশ করিতেই বৃদ্ধ দুইটি চমকাইয়া উঠিয়া নামগান শুরু করিল এবং যাহারা বিবাদ করিতে ব্যস্ত ছিল, তাহাদের অসমাপ্ত কোন্দল এই প্রকার আকস্মিক বাধায় বুকের মধ্যে যেন পাক খাইয়া ফিরিতে লাগিল। বিরক্তি ও ক্রোধে মূখ তাহাজের কালো হইয়া উঠিল। সেই ক্রুদ্ধ মুখের নামকীৰ্ত্তন ভাগ্যে গিয়া গৌর-নিতাইয়ের কানে পৌঁছায় না। জনকয়েক কম-বয়েসী চালাক বৈষ্ণবী দেখিলাম, তালে তালে শুধু ই করে এবং ঠোট নাড়ে। চেঁচাইয়া শক্তি ক্ষয় করে না। কিন্তু সকলের মুখ-চোখেই ঠিক পাউণ্ডে আটকানো গরু-বাছুরের ন্যায় অবসর করুণ চাহনি। দেখিলে ক্লেশ বোধ হয়। মাড়বারীরা কিন্তু অভ্যস্ত উৎফুল্ল । তাহারা নিজেদের সদনুষ্ঠানের কথা সগৰ্ব্বে বারংবার বলিতে লাগিল। আর একটা ইঙ্গিতও প্রকারাস্তরে করিতে ছাড়িল না ষে, কোন একটা উপায়ে ইহাদের আবদ্ধ না রাখিতে পারিলে অসৎপথে যাইবারও বিলক্ষণ সম্ভাবনা । সম্ভাবনা ত আছেই। তথাপি, ফিরিবার পথে আমাদের কেবলই মনে হইতে লাগিল, ইহার প্রয়োজন ছিল না,- এই ফন্দ্রি অসাধু ! ধৰ্ম্ম বস্তুটাকে এমন করিয়া উপহাস করা অন্যায় । ছলে, বলে, কৌশলে মানুষকে ধাৰ্ম্মিক করিতেই হইবে,—ইহা কিসের জন্ত ? এই যে মাড়বারী ধনী কতকগুলি নিরুৎস্থক উদাসীন বুভুক্ষু প্রাণীকে আহারের লোভে প্রলুব্ধ করিয়া ভগবানের নাম-কীৰ্ত্তনে বাধ্য করিয়াছে, ইহার মূল্য কতটুকু ! অথচ, এইরূপ জবরদস্তির দ্বারাই ধৰ্ম্মচর্চায় নিরত করা সকল ধর্মেরই একটা প্রচলিত পদ্ধতি। কোনটা বা ব্যক্ত, কোনটা বা গুপ্ত, এই যা বিভেদ ! এবং মাড়বারী প্রসন্নচিত্তে ইহারই অনুসরণ করিয়া চলিয়াছে মাত্র । এই ব্যক্তিকেই আর একদিন প্রশ্ন করিয়াছিলাম, তোমরা এত খরচ কর, কিন্তু সেবাশ্রমে সাহায্য কর না কেন ? : সে স্বচ্ছন্দে জবাব দিল, সেবাশ্রমের সন্ন্যাসী ও ব্রহ্মচারীরা ঔষধ দেয়, ষে-সে জাতের মড়া ফেলে, রোগীর সেবা করে,—এই-সব কি সাধুর কাজ ? সাধু শুদ্ধাচারী হইবে, ভজনসাধন করিবে, তবেই ত সে সাধু । মনে মনে বলিলাম, তাই বটে। তা না হইলে আর আমাদের এই দশা |*

  • বিজলী" পত্রিকার ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের ২৫এ আশ্বিন ও ২৩শে কাৰ্ত্তিক সংখ্যায় প্রকাশিত।

శిశి