পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পল্লী-সমাজ তুলতে পারিনি বড়দা ! যখন মা মারা গেলেন ; ও তখন ত ছোট। সেই বয়সেই আমার চোখ মুছিয়ে দিয়ে বলেছিল, রমেশদা, তুমি কেঁদ না, আমার মাকে আমরা দু'জনে ভাগ করে নেব —তোর সে কথা বোধ করি মনে পড়ে না রমা, না? আচ্ছ, আমার মাকে মনে পড়ে ত ? কথাটা শুনিয়া বুমার ঘাড় যেন লজ্জায় আরও ঝুঁকিয়া পড়িল। সে একটিবারও ঘাড় নাড়িয়া জানাইতে পারিল না যে, খুড়ীমাকে তাহার খুব মনে পড়ে। রমেশ বিশেষ করিয়া রমাকে উদ্বেগু করিয়াই বলিতে লাগিল, আর ত সময় নেই, মাঝে শুধু তিনটি দিন বাকী, যা করবার করে দাও ভাই, যাকে বলে একান্ত নিরাশ্রয়, আমি তাই হয়েই তোমাদের দোরগোড়ায় এসে দাড়িয়েচি। তোমরা না গেলে এতটুকু ব্যবস্থা পৰ্য্যন্ত করতে পারচি না। মাসী আসিয়া নিঃশব্দে রমেশের পিছনে দাড়াইলেন। বেণী অথবা বুম কেহই যখন একটা কথারও জবাব দিল না, তখন তিনি স্বমুখের দিকে সরিয়া আসিয়া রমেশের মুখ পানে চাহিয়া বলিলেন, তুমি বাপু তারিণী ঘোষালের ছেলে না? রমেশ এই মাসীটিকে ইতিপূৰ্ব্বে দেখে নাই ; কারণ সে গ্রাম ত্যাগ করিয়া যাইবার পরে ইনি রমার জননীর অমুখের উপলক্ষে সেই যে মুখুয্যেবাড়ি ঢুকিয়াছিলেন আর বাহির হন নাই। রমেশ কিছু বিস্মিত হইয়াই তাহার দিকে চাহিয়া রহিল। মাসী বলিলেন, না হ’লে এমন বেহায় পুরুষমানুষ আর কে হবে ? যেমন বাপ তেমনি ব্যাটা । বলা নেই, কহা নেই, একটা গেরস্তর বাড়ির ভিতর ঢুকে উৎপাত করতে সরম হয় না তোমার ? রমেশ বুদ্ধিক্ৰষ্টের মত কাঠ হইয়া চাহিয়া রহিল। আমি চললুম, বলিয়া বেণী ব্যস্ত হইয়া সরিয়া পড়িল । রম ঘরের ভিতর হইতে বলিল, কি বোকৃচ মাসী, তুমি নিজের কাজে যাও ন!— মাসী মনে করিলেন, তিনি বোনঝির প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতটা বুঝিলেন। তাই কণ্ঠস্বরে আরও একটু বিষ মিশাইয়া কহিলেন, নে রম, বকিস্নে। যে কাজ করতেই হবে, তাতে আমার তোমাদের মত চক্ষুলজ্জা হয় না। বেণীর অমন ভয়ে পালানোর কি দরকার ছিল ? বলে গেলেই ত হত ! আমরা বাপু তোমার গোমস্তাও নই, খাসতালুকের প্রজাও নই যে, তোমার কৰ্ম্মবাড়িতে জল তুলতে, ময়দ মাখতে যাবো। তারিণী মরেচে, গা-মৃদ্ধ লোকের হাড় জুড়িয়েচে , এ কথা আমাদের ওপর বরাত দিয়ে না গিয়ে নিজে ওর মুখের ওপর বলে গেলেই ত পুরুমানুষের মত কাজ হত। রমেশ তখনও নিম্পন্দ অসাড়ের মত দাড়াইয়া রহিল। বস্তুতঃই এ সকল কথা তাহার একান্ত দুঃস্বপ্নেরও অগোচর ছিল। ভিতর হইতে রান্নাঘরে কপাটের শিকলটা ঝন ঝন করিয়া নাড়িয়া উঠিল। কিন্তু কেহই তাহাতে মনোযোগ করিল S\రిdt