পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/১০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ভূতের দৌরাত্মাও তখন হইতে শেষ হয়। এ ক্ষেত্রেও হয় ত তেমনি কিছু ছিল, হয় ত ছিল না। কিন্তু যাক গে! বলিতেছিলাম যে সেই ধূলা-বালি ভরা বাধের উপর যখন হতজ্ঞানের মত বসিয়া পড়িলাম, তখনই শুধু দুটি লঘু পদধ্বনি শ্মশানের অভ্যন্তরে গিয়া ধীরে ধীরে মিলাইল। মনে হইল, সে যেন স্পষ্ট করিয়া জানাইল—ছিঃ ছিঃ, ও তুই কি করিলি ? তোকে এতটা পথ যে পথ-দেখাইয়া আনিলাম, সে কি ওইখানে বসিয়া পড়িবার জন্য । আয় আয় ! একেবারে আমাদের ভিতরে চলিয়া আয় ! এমনি অশুচি অস্পৃষ্ঠের মত প্রাঙ্গণের একপ্রাস্তে বসিস না—আমাদের সকলের মাঝখানে আসিয়া বোস্। কথাগুলো কানে শুনিয়াছিলাম, কিম্বা হৃদয় হইতে অনুভব করিয়াছিলাম—এ কথা আজ আর স্মরণ করিতে পারি না। কিন্তু তবুও যে চেতনা রহিল, তাহার কারণ—চৈতন্যকে পীড়াপীড়ি করিয়া ধরিলে, সে এমনি এক রকম করিয়া বজায় থাকে ; একেবারে যায় না, এ আমি বেশ দেখিয়াছি । তাই দু-চোখ মেলিয়া চাহিয়া রহিলাম বটে, কিন্তু সে যেন এক তন্দ্রার চাহনি। সে ঘুমানও নয়, জাগাও নয়। তাহাতে নিদ্রিতের বিশ্রামও থাকে না, সজাগের উদ্যমও আসে না। ঐ এক রকম। - তথাপি এ কথাটা ভুলি নাই যে, অনেক রাত্রি হইয়াছে, আমাকে তাঁবুতে ফিরিতে হইবে ; এবং সে জন্য একবার অন্তত: চেষ্টা করিতাম কিন্তু মনে হইল সব বৃথা । এখানে আমি ইচ্ছা করিয়া আসি নাই—আসিবার কল্পনাও করি নাই । স্বতরাং যে আমাকে এই দুর্গম পথে পথ দেখাইয়া আনিয়াছে, তাহার বিশেষ কোন কাজ আছে। সে আমাকে শুধু শুধু ফিরিতে দিবে না। পূৰ্ব্বে শুনিয়াছিলাম, নিজের ইচ্ছায় ইহাদের হাত হইতে নিস্কৃতি পাওয়া যায় না । যে পথে যেমন কবিয়াই জোর করিয়া বাহির হও না কেন, সব পথই গোলকধাঁধার মত ঘুরাইয়৷ ফিরাইয়া সাবেক জায়গায় আনিয়া হাজির করে ! স্বতরাং চঞ্চল হইয়া ছট্‌ফট্‌ করা সম্পূর্ণ অনাবাক মনে করিয়া কোনপ্রকার গতির চেষ্টামাত্র না করিয়া যখন স্থির হইয়া বসিলাম, তখন অকস্মাৎ যে জিনিসটি চোখে পড়িয়া গেল, তাহার কথা আমি কোনদিন বিস্মৃত হই নাই। রাত্রির যে একটা রূপ আছে, তাহাকে পৃথিবীর গাছ-পালা, পাহাড়-পৰ্ব্বত, জল-মাটি, বন-জঙ্গল প্রভৃতি জাতীয় দৃশ্যমান বস্তু হইতে পৃথক করিয়া, একান্ত করিয়া দেখা যায়, ইহা যেন আজ এই প্রথম চোখে পড়িল। চাহিয়া দেখি, অন্তহীন কালো আকাশ-তলে পৃথিবী-জোড়া আসন করিয়া গভীর রাত্রি নির্মীলিত চক্ষে ধ্যানে বসিয়াছে, আর সমস্ত বিশ্ব-চরাচর মুখ বুজিয়া নিশ্বাস রুদ্ধ করিয়া অত্যন্ত పెbr