পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গৃহদাহ স্বরেশ কোন কথাই কহিল না, কেবল আর একবার হেট হইয়া প্রণাম করিয়া গাড়িতে গিয়া বসিল । রামবাৰু আর একদফা আশীৰ্ব্বাদ করিয়া উচ্চৈঃস্বরে জানাইয়া দিলেন যে, তিনিও একখানা এক্কা আনিতে বলিয়া দিয়াছেন। হয়ত বা বেলা পড়িতে না-পড়িতেই গিয়া হাজির হইবেন, কিন্তু তখন রাগ করিলে চলিবে না । এই বলিয়া পরিহাস করিতে গিয়া শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া মৌন হইলেন। গাড়ি চলিয়া গেলে তিনি মনে মনে বলিতে লাগিলেন, এ ভালই হইল যে, ইহার সময় থাকিতে চলিয়া গেল। এখানে শুধু যে স্থানাভাব, তাই নয়, তাহার বিধবা ভগিনীটির স্বভাবটিও তিনি ভাল করিয়াই জানিতেন। অপরের নাড়ীর খবর জানিতে তাহার কৌতুহলের অবধি নাই। সে আসিয়াই স্বরমাকে কঠিন পরীক্ষা করিতে প্রবৃত্ত হুইবে, এবং তাহার ফল আর যাহাই হোক, আহলাদ করিবার বস্তু হইবে না । এই মেয়েটির কিছুই না জানিয়া ও তিনি জানিয়াছিলেন, সে সত্যসত্যই ভদ্রমহিলা । কোন একটা সুবিধার খাতিরে সে কিছুতেই মিথ্যা বলিতে পরিবে না। সে যে ব্রাহ্ম-পিতার কন্যা, সে যে নিজে ও ছোয়া-ছুয়ি ঠাকুরদেবতা মানে না, ইহার কোনটাই গোপন করিবে না । তখন এ-বাটীতে যে বিপ্লব বাধিয়া যাইবে তাহা কল্পনা করিতে হৃদকম্প হয় । কিন্তু ইহা ত গেল তাহার নিজের স্বর্থ-সুবিধার কথা। আরও একটা ব্যাপার ছিল, যাহাকে তিনি নিজের কাছেও স্পষ্ট করিয়া লইতে চাহিতেন না । র্তাহার মেয়ে ছিল না, কিন্তু প্রথম সস্তান তাহার কন্যা হইয়াই জন্মগ্রহণ করিয়াছিল । আজ সে বঁাচিয়া থাকিলে অচলার জননী হইতে পারিত, সুতরাং বয়স বা চেহারার সাদৃপ্ত কিছুই ছিল না। কিন্তু সেই ক্ষুধাটা যে র্তাহার কত বড় ছিল, তাহা সেই অচেনা মেয়েটিকে যেদিন পথে পথে কাদিয়া চিকিৎসকের অনুসন্ধান করিতে দেখিয়াছিলেন সেইদিনই টের পাইয়াছিলেন। সেদিন মনে হইয়াছিল, সেই বহুদিনের হারানো সস্তানটিকে যেন হঠাৎ খুজিয়া পাইয়াছেন ; এবং তখন হইতে সে ক্ষুধাটা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাইয়াছে এবং মস্তরেও অনুভব করিতেন সত্য, কিন্তু কি যেন একটা গভীর রহস্ত এই মেয়েটিকে ঘেরিয়া উহাদের অগোচরে আছে ; তাই থাক—যাহা চোখের আড়ালে আছে, তাহা আড়ালেই থাকুক, চেষ্টা করিয়া তাহাকে বাহিরে টানিয়া श्रोनिम्नां श्रांब्र कांछ माझे । একদিন রাক্ষুসী একটুমাত্র আভাস দিয়াছিল যে, বোধ হয় ভিতরে একটা পারিবারিক বিবাদ অাছে—বোধ হয় কলহ করিয়া স্বরেশবাবু স্ত্রী লইয়া গৃহত্যাগ করিয়া আসিয়াছেন, হঠাৎ যেদিন অচলা আপনাকে ব্রাহ্মমহিলা বলিয়া প্রকাশ করিয়াছিল, অথচ স্বরেশের কণ্ঠে ইতিপূৰ্ব্বেই যজ্ঞোপবীত দেখা গিয়াছিল, সেদিন বৃত্ত চমকিত হইয়াছিলেন, আঘাত পাইয়াছিলেন, কিন্তু মনে মনে এই গুপ্ত রহস্তের ষেন ఇతి? १ध-३१