পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ শুধু খটু খট্‌ করিয়া স্তব্ধতার পরিমাণ করিতে লাগিল। কিছুক্ষণে এই কঠিন নীরবতা যখন একেবারেই অসহ্য হইয়া উঠিল, তখন স্বরেশ তাহাব সমস্ত দেহটাকে ঋজু এবং শক্ত করিয়া কহিল দেখুন, যা হয়ে গেচে, তার পরে আমাদের মধ্যে চক্ষুলজ্জার স্থান নেই। বেলা গেল—আমি এবার যাব । কিন্তু তার আগে গোটা-দুই কথার জবাব শুনে যেতে চাই, দেবেন ? অচলা মুখ তুলিল। তাহার চোখ দুটি ব্যথায় ভরা। কহিল, বলুন । স্বরেশ ক্ষণকাল স্থির থাকিয়া বলিল, আপনার বাবার দেনাটা পরিশোধ করে দিতে কাল-পরশু একবার আসব ; কিন্তু আপনার সঙ্গে দেখা হবার প্রয়োজন নাই। আমি জানতে চাই, আমাদের দু'জনের সম্বন্ধে তার অভিপ্রায় কি আপনি জানেন ? অচলা কহিল, আমাকে তিনি স্পষ্ট করে কিছুই বলেন না। সুরেশ বলিল, আমাকেও না। তবুও বিশ্বাস, তিনি আমাকেই—কিন্তু আপনি বোধ করি রাজি হবেন না ? অচলা কহিল, না । কোনদিন না ? অচলা দৃষ্টি অবনত করিয়া কহিল, না । কিন্তু, মহিমের আশা যদি না থাকে ? অচলা অবিচলিত-স্বরে কহিল, সে আশা ত নেই-ই । স্বত্বেশ প্রশ্ন করিল, বোধ করি, তবুও না ? অচলা মুখ তুলিল না, কিন্তু তেমনি শান্ত দৃঢ়-স্বরে কহিল, তবুও না । সুরেশ কোচের পিঠে ঢলিয়া পড়িয়া একটা নিশ্বাস ফেলিয়া বলিল, যাক, এ দিকটা পরিষ্কার হয়ে গেল। বাচা গেল। বলিয়া খানিকক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া পুনরায় সোজা হইয়া বসিয়া বলিল, কিন্তু আমি এই একটা মুঙ্গিলের কথা ভাবচি যে, আপনার বাবার দেনাটা তা হলে শোধ হবে কি করে ? অচলা ভয়ে ভয়ে একটুখানি মুখ তুলিয়া অত্যন্ত সঙ্কোচের সহিত কহিল, আর ত আপনি দিতে পারবেন না ? পারব না ? কেন ? প্রশ্ন করিয়া সুরেশ তীক্ষ ব্যগ্র-দৃষ্টিতে চাহিয়া রহিল। সে চাহনির সম্মুখে অচলা পুনরায় মাথা ষ্টেট করিয়া ফেলিল । কয়েক মুহূৰ্ত্ত উত্তরের প্রতীক্ষা করিয়া মুরেশ হাপিল। কিন্তু এবার তাহার হাসিতে আনন্দ না থাক্, কৃত্রিমতাও কিছু ছিল না । কহিল, দেখুন, আমার সঙ্গে পরিচয় হওয়া পৰ্য্যন্ত আমার কোন আচরণকেই যে ভদ্র বলা যেতে পারে না, সে আমি নিজেও জানি ; কিন্তু আমি অত ছোটও নই। আপনার বাবাকে আমি এই টাকাটা ঘুষ দিতে চাইনি, তার বিপদে সাহায্য করতেই চেয়েছিলাম। স্বতরাং আপনার ○8