পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ মহিমের বুকের উপর হইতে কে যেন অসহ গুরুভার পাষাণের বোঝা মায়ামস্ত্রে ঠেলিয়। ফেলিয়া দিল । সে কথা কহিতে পারিল না, শুধু অব্যক্ত বিস্ময়ে নির্নিমেষ চক্ষে চাহিয়া রহিল। অচলা কহিল, একটুখানি সবুৰ্ব কর, আমি লাইম-জুস দিয়ে সরবং তৈরি করে আনচি ৷ বলিয়া সম্মতির অপেক্ষা না করিয়াই ঘর ছাড়িয়া চলিয়া গেল । স্বরেশ আর একদিকে মুখ ফিরাইয়া কলের পুতুলের মত ধীরে ধীরে চা খাইতে লাগিল বটে, কিন্তু তাহার প্রতি বিন্দু তখন তাহার মুখে বিস্বাদ ও তিক্ত হইয়া উঠিয়াছিল। চা-পান শেষ করিয়া কেদারবাবু তাড়াতাড়ি কাপড় পরিয়া তৈরি হইয়া আসিয়া দেখিলেন, অচলা নিজের জায়গায় বসিয়া একমনে সেলাই করিতেছে। ব্যস্ত এবং আশ্চৰ্য্য হইয়া কহিলেন, এখনো বসে কাপড় সেলাই করচ, তৈরি হয়ে নাওনি যে ? অচল মুখ তুলিয়া শাস্ত-কণ্ঠে কহিল, আমি যাব না বাবা । যাবে না ! সে কি কথা ? না বাবা, আজ তোমরা যাও—আমার ভাল লাগছে না। বলিয়া একটুখানি হাসিল । যুরেশ অভিমান ও গৃঢ় ক্রোধ দমন করিয়া কহিল, চলুন কেদারবাবু, আজ আমরা যাই। ওঁর হয়ত শরীর ভাল নেই, কাজ কি পীড়াপীড়ি করে ? কেদারবাবু তাহার প্রতি চাহিয়াই তাহার ভিতরের ক্রোধ টের পাইলেন । মেয়েকে কহিলেন, তোমর কি কোনোরকম অমুখ করেচে ? অচলা কহিল, না বাবা, অমুখ করবে কেন, আমি ভাল আছি । স্বরেশ মহিমের দিকে সম্পূর্ণ পিছন ফিরিয়া দাড়াইয়াছিল—তাহার মুখের ভাব লক্ষ্য করিল না ; বলিল, আমরা যাই চলুন কেদারবাবু। ওঁর বাড়িতে কোনোরকম আবখ্যক থাকতে পারে-—জোর করে নিয়ে যাবার দরকার কি ? কেদারবাবু কঠোর-স্বরে জিজ্ঞাসা করিলেন, বাড়িতে তোমার কাজ আছে ? অচলা মাথা নাড়িয়া বলিল, না । কেদারবাবু অকস্মাৎ চেঁচাইয়া উঠিলেন, বলচি চল । অবাধ্য একগুঁয়ে মেয়ে। অচলার হাতের সেলাই স্খলিত হইয়া নীচে পড়িয়া গেল । সে স্তম্ভিত-মুখে দুই চক্ষু ডাগর করিয়া প্রথমে স্বরেশের, পরে তাহার পিতার প্রতি চাহিয়া থাকিয়া, অকস্মাৎ মুখ ফিরাইয়া দ্রুতবেগে উঠিয়া গেল । স্বরেশ মুখ কালি করিয়া কহিল, আপনার সব-তাতেই জবরদস্তি। কিন্তু আমি আর দেরি করতে পারিনে—অনুমতি করেন ত যাই । 88