পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ আচল ঘাড় নাড়িয়া বলিল, না, জানিনে! মৃণাল আশ্চৰ্য্য হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, সেজদা আমার কথা তোমাকে আগে বলেন নি । অচলা কহিল, না, কোনদিন নয় । তার বাড়ি-ঘর সম্বন্ধে সব কথাই আমাকে জানিয়েছিল ; কিন্তু যা সকলের আগে জানানো উচিত ছিল সেই তোমার কথাই কেন যে কখনো বলেননি, আমার ভারি আশ্চৰ্য্য বোধ হচ্ছে মৃণালদিদি মৃণাল অন্যমনস্কের মত বলিল, তা বটে। 3. অচলা কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া মৃদুকণ্ঠে হাসিমুখে জিজ্ঞাসা করিল, তোমার সঙ্গে বুঝি ওঁর প্রথম বিয়ের কথা হয় ? মৃণাল তখনও অন্যমনস্ক হইয়া ভাবিতেছিল, কহিল, ই। অচলা কহিল, তবে হ’ল না কেন ? হলেই ত বেশ হ’ত । এতক্ষণে কথাটা মৃণালের কানের ভিতর গিয়া ঘা দিল। সে অচলার মুখের প্রতি চোখ তুলিয়া বলিল, সে হবার নয় বলে হ’ল না। অচলা তথাপি প্রশ্ন করিল, হবার বাধা কি ছিল ? তুমি ত আর সত্যিই তার কোন আত্মীয়া নও ? তা ছাড়া, ছেলেবেলায় যে ভালবাসা জন্মায় তাকে উপেক্ষা করাও ত ভালো কাজ নয় ? তাহার প্রশ্নের ধরণে মৃণাল হঠাৎ চমকিয়া উঠিল। ক্ষণকাল স্থির-দৃষ্টিতে অচলার মুখের পানে চাহিয়া থাকিয়া কহিল, এ সব কি তুমি খুজে বেড়াচ্চ সেজদি ? তুমি কি মনে কর, ছেলেবেলার সব ভালবাসারই শেষ ফল এই। না, মানুষে বিয়ে দেবার মালিক ? এ শুধু এ-জন্মের নয় সেজদি, জন্ম-জন্মাস্তরের সম্বন্ধ! আমি র্যার চিরকালের দাসী, তার হাতে তিনি সঁপে দিয়েচেন । মামুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছায় কি যায় আসে ! অচলা অপ্রতিভ হইয়া বলিল, সে ঠিক কথা মৃণালদিদি—আমি তাই জিজ্ঞাসা করছিলুম— কথাটা সে শেষ করিতে পারিল না, সমস্ত মুখ লজ্জায় আরক্ত হইয়া উঠিল। মৃণালের কাছে তাহা অগোচর রহিল না । সে অচলার হাতখানি সস্নেহে মুঠার মধ্যে লইয়া বলিল, সেজদি, তুমি শুধু সেদিন স্বামী পেয়েচ, কিন্তু আমি এই পাচ বছর ধরে র্তার সেবা করচি। আমার এই কথাট শুনো ভাই, স্বামীর এই দিকটা কোনদিন নিজের বুদ্ধির জোরে আবিষ্কার করবার চেষ্টা ক’রো না । তাতে বরং ঠকাও ঢের ভাল, কিন্তু জিতে লাভ নেই। যদু বাহির হইতে কহিল, দিদি, বাবুদের খাবার জায়গা হয়েচে । আচ্ছা চল, আমি যাচ্চি, বলিয়া মৃণাল হঠাৎ দুই হাত বাড়াইয়া অচলার মুখখানা কাছে টানিয়া আনিয়া একটু চুমা খাইয়া দ্রুতপদে উঠিয়া গেল। ግ8