পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ অচলার চোখে পড়িল, যাবার দিকে তাহার মুখে যত তাড়, কাজের দিকে তত নয়! সত্যই চলিয়া যাইতে সে যেন ঠিক তত উৎসুক নয়। একদিন তাহার অন্তরালে দাড়াইয়া পৃথিবীকে সে যেভাৱে চিনিয়া লইতেছিল, এখন তাহার আবরণের বাহিরে আসিয়া পুথিবীর সে চেহারা তাহার চোখে যেন আর রহিল না। এবাটীতে পা দিয়া পৰ্য্যন্ত যখনই তাকে স্বামীর সঙ্গে কোন একটা হাসি-তামাসা করিতে দেখিয়াছে, তখনই তাহার বুকের মধ্যে ছ্যাক করিয়া উঠিয়াছে, কিন্তু এখন মাঝে মাঝে যেন সূচ ফুটিতে লাগিল। এ-সব কিছুই নয়, ইহার মধ্যে যথার্থ পরিহাস ভিন্ন আর কিছুই নাই—মন খারাপ করিবার কোন হেতু নাই—তাহার মন বড় অশুচি—এমনি করিয়া আপনাকে সে যতই শাসন করিবার চেষ্টা করে, ততই কোথা হইতে সংশয়ের বিপরীত তর্ক তাহার হৃদয়ের মধ্যে অনিচ্ছা-সত্ত্বেও বারংবার মুখ তুলিয়া তাহাকে ভ্যাংচাইতে থাকে। মহিমের স্বাভাবিক গাম্ভীৰ্য্য এইখানে যেন অতিশয় বাড়াবাড়ি বলিয়া তাহার মনে হয় । সে এই বলিয়া বিতর্ক করিতে থাকে, ভিতরে যদি কিছুই নাই, তবে পরিহাসের জবাব পরিহাস দিয়া করিতেই বা দোষ কি ! যে তামাসা করিয়া উত্তর দিতে পারে না, সে ত অন্ততঃ হাসিমুখে সেটা উপভোগ করিতে পারে! অথচ সে যেন স্পষ্ট দেখিতে পায়, মৃণালের বৃহস্যালাপের স্থত্রপাতেই মহিম লজ্জিত-মুখে কোনমতে তাড়াতাড়ি অন্যত্র পলাইয়া বঁাচে । তাই কোথায় কি একটা যেন প্রচ্ছন্ন অন্যায় রহিয়াছে, আজকাল এ চিন্তা কোনমতেই সে মন হইতে সম্পূর্ণ তাড়াইতে পারে না। মৃণালের সঙ্গে একত্র কাজ-কৰ্ম্ম করিতেও তাহার একশ’বার মনে হয়, সে নিজে মেয়েমানুষ হইয়৷ যখন বুকের মধ্যে একটা গোপন ঈর্ষার বেদনা বহন করিতে থাকিয়াও ইহাকে কোনোমতে ছাড়িয়া দিতে পারিতেছে না, একত্র এতকাল ঘর করিয়াও কি কোন পুরুষমানুষে এ মেয়েকে ভাল না বাসিয়া থাকিতে পারে ? মৃণাল আসিলেই যে উড়ে বামুন তাহার রান্নাঘরের দায় হইতে মুক্তি পাইয়া বাচিত, একথা অচলা জানিত না । এবারেও সে ছুটি পাইয়া ঘুরিয়া বেড়াইতেছিল ; কিন্তু অচলা কেবলই লক্ষ্য করিয়া দেখিতে লাগিল, মৃণাল নিজের হাতে রাধিয়া মহিমকে খাওয়াইতে যেন প্রাণ দিয়া ভালবাসে । আজ সকালে সে হঠাৎ বলিয়া বসিল, মৃণালদিদি, আজ তোমার ছুটি । মৃণাল বুঝিতে না পারিয়া কহিল, কিসের ভাই সেজদি । অচলা কহিল, রান্নার। আজ আমিই রাধব । মৃণাল অবাক হইয়া বলিল, পোড়া কপাল! তুমি আবার রাধবে কি ! অচলা মাথা নাড়িয়া কহিল, বা আমি বুঝি জানিনে ? বাড়িতে আমি ত কতদিন রেখেছি। সে হবে না মৃণালদি, আমি রাধবই। ՊԵ,