পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/৪৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দ্বাদশ পরিশিষ্ট্র সিন্ধু-নদে বাণিজ্য-পোত পরিচালনার্থ ১৮৩৪ খৃষ্টাব্দের অতিরিক্ত সন্ধি। সিন্ধুনদে বাণিজ্য-শুল্ক স্থাপনার্থ মহারাজ রণজিৎ সিংহের সহিত বুটিশ গবর্ণমেণ্টের অতিরিক্ত সন্ধি । ( ১৮৩৪ খ্ৰীষ্টাব্দের ২১শে নবেম্বর । ) পূর্ব পূর্ব সন্ধি-সর্ত অনুসারে হিজ হাইনেস মহারাজ রণজিৎ সিংহের সহিত অনারেবল ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর বন্ধুত্ব স্থাপিত হইয়াছে, এবং মিত্রতা-মূলক কার্য-পরম্পরায় তাহা দৃঢ়বদ্ধ হইয়া গিয়াছে। ১৮৩২ খ্ৰীষ্টাব্দের ২৬শে ডিসেম্বর তারিখে লাহোরে যে সন্ধি হইয়াছিল, তাহার ৫ম সর্ত অনুসারে তৎকালে নির্ধারিত হয় যে, উভয় গবর্ণমেণ্ট পরস্পর একমত হইয়া, সিন্ধুনদ এবং শতদ্রু নদীর উত্তর এবং দক্ষিণ দিকে যে সকল বাণিজ্য-পোত গমনাগমন করে, সেই সকল বাণিজ্য-পোতের পণ্যদ্রব্যের উপর নির্দিষ্ট হারে নিয়মিতরূপে কর সংস্থাপন করিবেন। এক্ষণে সেই গবরমেণ্টদ্বয় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইয়াছেন যে, বাণিজ্য-ব্যাপারে এবং এইরূপ ব্যবস্থা-বন্দোবস্তে ভারতীয় জনসাধারণ সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ । মুল্য এবং পরিমাণ অনুসারে পণ্য-ত্রব্যের উপর শুদ্ধ নিৰ্দ্ধারণের যে নিয়ম তৎকালে প্রবর্তিত হইয়াছিল, সেই নিয়মে অধুনা কার্য নির্বাহিত হইতে থাকিলে, জনসাধারণের সেই অনভিজ্ঞতা হেতু উভয় পক্ষের মধ্যে পরস্পর মনোমালিন্ত জন্মিবার সম্ভাবনাই অধিক ; তাহাতে অনেক স্থলে বিস্তর ক্ষতিপুরণ করারও আবগুক হইয়া উঠিবে ; এই সমস্ত বিষময় পরিণামের প্রতিকারার্থ, লাহোর গবর্ণমেণ্ট এবং বৃটিশগবর্ণমেণ্ট উভয়েই পূর্ব নিয়মের পরিবর্তে এক “টোল” বা নির্দিষ্ট পরিমাণে শুদ্ধ স্থাপনের অভিপ্রায় করিয়াছেন ; বাণিজ্য তরণীতে যে কোন প্রকারের পণ্যই বোকাই থাকুক না কেন, সেই কর সর্ব প্রকার বাণিজ্য-তরণী হইতেই সংগৃহীত হইবে। স্বত্তরাং পূর্ব সন্ধিপত্রের অতিরিক্ত সন্ধিমতে প্রত্যেক গবর্ণমেণ্টই অঙ্গীকার করিতেছেন যে, এই সন্ধি অনুসারে নিদিষ্ট হারে সেই নির্দিষ্ট ‘টোল’ বা বাণিজ্য-শুদ্ধ নিৰ্দ্ধারিত হইবে ; পরম্পরের সম্মভি ব্যতিরেকে কোন গবর্ণমেণ্টেই তাহার পরিমাণ বৃদ্ধি করিতে বা কমাইতে পারিবেন না । প্রথম সর্ত। সিন্ধুনদ এবং শতঙ্ক নদীর উপর দিয়া, সমূদ্র এবং রোপারের মধ্যে পণ্যজাত বোঝাই যে সকল পোত বা নৌকা গমনাগমন করিবে, তাহাদের আকার কিংবা