পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Gbo শিখ-ইতিহাস চতুর্দশ শতাব্দীতে অধ্যবসায়শীল পণ্ডিত গোরক্ষনাথ পঞ্জাব প্রদেশে যোগধর্ম বা স্বত্র’ প্রচার করেন এবং তথাকার সকলেই অগ্রহ-সহকারে তাহা গ্রহণ করে । এই "যোগ স্বত্র প্রকৃত প্রস্তাবে বৌদ্ধ ধর্মের একটি সাধন বা কল্পনা প্রস্থত। কিন্তু দার্শনিক মত বলিয়া ব্যাস এবং শাক্য উভয়ের শিষ্যগণই এই স্বত্র সমভাবে গ্রহণ করিয়াছিল। যাহা হউক, তখন লোকের ধারণা ছিল যে, এই কলিযুগে পাপী ব্যক্তি এরূপ মহৎ এবং ভয়াবহ প্রায়শ্চিত্ত করিতে সমর্থনহে এবং সম্পূর্ণ মোক্ষ লাভেও অক্ষম। কিন্তু গোরক্ষনাথ এই উপদেশ প্রদান করিতে আরম্ভ করিলেন যে, কঠোর মানসিক ঔদাসীন্য এবং উপসনায়, অতি অধম পাপীর শরীরও পবিত্র স্বৰ্গীয় দেবত্ব লাভ করে, এবং তাহার আত্মা ক্রমে ক্রমে সর্বনিয়ন্ত পরমেশ্বরের আত্মার সহিত মিলিত হয়। তিনি শিবকেই শিষ্যগণের একমাত্র উপাস্ত দেবতা মনোনীত করিয়া অতঃপর প্রচার করিলেন যে, এই উপাস্ত দেবতা শিবই জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সকলের কঠোর অধ্যবসায়ের এবং উপাসনার পুরস্কার বিধান করিবেন। তিনি তখন শিষ্যগণের সম্প্রদায় ও ধর্ম-বিশ্বাদের নিদর্শন স্বরূপ ললটস্থ সামান্য চিহ্নে পরিতৃপ্ত হইলেন না। অন্যান্য সম্প্রদায় হইতে তাহাদিগকে স্বতন্ত্র করিবার জন্য তিনি তাহাঁদের কর্ণ-বেধের ব্যবস্থা করিলেন । তদবধি তাহার শিষ্যসম্প্রদায় কাণকাটা (কাণফুটা) বা ছিদ্রকণ যোগী সম্প্রদায় নামে পরিচিত।২৮ এইরূপে ধর্মসংস্কারের প্রথম স্তর গঠিত হইল। জাতিভেদ প্রথা প্রচলিত থাকায়, ধনী এবং ক্ষমতাশালী ব্যক্তির অভিমান এবং গর্ব দৃঢ়ৰূপে বদ্ধমুল হইয়াছিল। ধর্মে চতুর্দিকের প্রস্তরগুলির পবিত্রতা বিধান করে। দেশীয় ভাষায় কথিত হয়,-"রেওয়া কি কঙ্কর সব শঙ্কর সমান, অর্থাৎ ‘নর্মদার (রেওয়ার) প্রত্যেক প্রস্তরখও ঐশ্বরিক শক্তিসম্পন্ন এবং শিবতুল্য। মহেশ্বর, ‘সুহেসর বাউ" বা সহস্ৰ-বাহু নামক এক ক্ষত্রির রাজার রাজধানী ছিল ; হিন্দিয়ার পর-পারে অবস্থিত “নিমাউর নগরের অনতিদূরে পরশুরামের হন্তে সেই রাজা নিহত হন। এই ঘটনাই, যুদ্ধপ্রিয় প্রাচীন ব্রাহ্মণ বীর-বংশের ধ্বংসের কারণ বলিয়া অনুমিত হয়। sv I (Compare Wilson, As. Res, xvii. 183, &c.) and the Dabistan (Troyer's Translation, i, 123 &c, ) শেষোক্ত গ্রন্থে, দেবীন্থানে, মোসান ফাণী দেখাইয়াছেন যে, যোগী এবং মুসলমানদের মধ্যে অনেক বিষয়ে সাদৃপ্ত আছে। যোগ সম্বন্ধে বলিতে গেলে, বিজ্ঞানশাস্ত্রমতে দেখা যায় যে, যোগ এবং ঔদাসীন্ত বা আত্মজ্ঞান (বিবেক) উভয়ই এক। এইরূপ জ্ঞান জন্মিলে, আত্মা অমরত্ব লাভ করে এবং ভাগ্যচক্রের অধীন হয় না । ইহাতে সত্য বিষয়ে জ্ঞান জন্মে এবং প্লেটোর ‘বিবেক’ ('Idea' ) অথবা পৃথিবীর আদিম গঠন উপলব্ধি করিতে পারা যায়। আরও দেখা যায় যে, কি ভারতবাসী, কি গ্ৰীকগণ কেহই স্বীকার করেন নাই যে, মনুয়গণ এই অসম্পূর্ণ অবস্থায় ঈশ্বরে লীন হইতে এবং সত্য বিষয়ে এরূপ জ্ঞান লাভ করিতে পারে। ( Compare Ritter, "Ancient PhilosophoMorrison': Translation.* ii, 207, 334-336, and Wilson, “As. Res," xvii. 185) আরও বিশেষ অনুসন্ধান করিলে বুঝা যাইত যে, মূল স্বত্রের কপিল এবং পাতঞ্জলের সমবেত মতের সহিত প্লেটোর মত, অনেকাংশে তুল্য। যখ,-ঈশ্বর এবং প্রকৃতি উভয়ই অমর—চিরস্থায়ী ; "মাহাৎ' অথবা বিবেক অথবা জাগতিক বিবেকশক্তি এবং নোয়জ (Nous ) অথবা লগোজ ( Logos ) সকলই এক। এইরূপ আরও অনেক দৃষ্টান্ত দেখিতে পাওয়া যায়।