পাতা:শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত.djvu/২৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।


যে হেন অন্তর জানে থাকেন অন্তরে।
অন্তরের ধন কেন রাখিয়ে অন্তর।,
তাহারে অন্তরে রেখে যাইরে অন্তরে।
কেমন অন্তর মোঃ কি ভাবি অন্তরে॥
অস্তরে অন্তর জানি কহে তারকেরে।
দেখহে কেমন ভাব হয়েছে অন্তরে॥

শ্ৰীশ্ৰীহরিলীলামৃত।

একে বলে কৰ্ম্মফাশ বুঝহ অন্তরে॥ কৰ্ম্মফসে পড়ি জীব ফিরে ঘুরে মরে॥ জ্ঞান অস্ত্রে কৰ্ম্মফাস হয় কাটিবার। জনম মরণ তার না{হ থাকে আর॥ এই সব প্রেম হ’ল পদ্মবন মাঝ। - কহিছে তারকচন্দ্র কবি রসরাজ॥
দ্বিতীয় তরঙ্গ।
বলন। জয় জয় হরিচাদ জয় কুষ্ণদাস। জয় ঐবৈষ্ণবদাস জয় গোরিদাস॥ জয় ঐস্বরূপদাস পঞ্চ সহোদর। পতিত পাবন হেতু হৈল অবতার। জয় জয় গুরুচাদ জয় হীরামন। জয় ঐগোলোকচন্দ্র জয় ঐলোচন॥ জয় জয় দশরথ জয় মৃত্যুঞ্জয়।, জয় জয় মহানন্দ প্রেমানন্দ ময়॥ জয় নাটু জয় ব্রজ জয় বিশ্বনাথ। দাস করি তারকের কর আত্মসাৎ ৷
স্বামী মহানন্দ পাগলের লীলা।
পদুরে। বড় পাগল বলিয়া ব্যাতি শ্ৰীগোলোক। বে কালে ভুলোক ছাড়ি গেলেন গোলোক। গোলোকের অঙ্গ হ’তে উঠে এক জ্যোতি। জ্যোতির সহিতে এক উঠিল শকতি॥ ধাইয়। উঠিল জ্যোতি গগণ মণ্ডলে। নামিতে লাগিল জ্যোতি দেখিল সকলে; জয়পুর তারকের বাড়ী দেহত্যাগ। এসময় তারকের কোলে মহাভাগ॥ সবে দেখে সেই জ্যোতি নিম্নগামী হয়। দেখিতে দেখিতে জ্যোতি হ’য়ে গেল লয়। তারক দেখিল জ্যোতি পুৰ্ব্বমুখ হ’ল। নারিকেলবাড়ী গিৰু। পতিত হইল॥
মহানন্দ শ্ৰীঅঙ্গেতে মিশিল সে জ্যোতি। ছোট পাগল বলিয়া হ’ল তার খ্যাতি॥ যেই দিন মহানন্দ করিল শ্রবণ। করিল গেলোকচাদ লীলা সম্বরণ॥
শ্রবণেতে মহানন্দ নিরানন্দ চিত।
ঠিক না করিতে পারে কি কাৰ্য্য উচিত॥ হইল উন্মনা যেন পাগলের ন্যায়। হইয়। বিস্মৃতি ভাব ইতি উতি ধায়। ঘূর্ণ বায়ু মত সদা করেন ভ্রমণ। যেখানে যেখানে পাগলের আগমন॥ ভ্ৰমি সব ঘরে ঘরে করেন তালাস। খুজিয়া না পেয়ে ক্রমে বাড়ে হা হুতাশ॥ অবশেষে করিলেন ফুকুর গমন। মধুমতী নদীকুলে ঠেকিল তথন॥ পাগলের বিরহেতে দহিতেছে কায়। নদীজল দেখে হ’ল প্রফুল্ল হৃদয়॥ জালা জুড়াইতে জলে ঝাপ দিয়া পড়ে। দিলে বাপ পেয়ে তাপ জল গেল সরে॥ নদী মধ্যে যত দূর হয় অগ্রসর। জল শুষ্ক হ’য়ে যায়, তপ্ত কলেবর॥ দেহ হ’তে দুই পার্শ্বে আড়ে পরিসর। দুইহাত দেড়হাত জল দুরতর॥ আছাড়িয়া করে সদ। হস্ত আস্ফালন। জলস্তস্ত মত উদ্ধে ধূম্ৰ উদগীরণ॥ হেনকালে মূৰ্ত্তিমন্ত হইয়া গোসাই। গোলোক পাগল এসে দাড়াল সে ঠাই॥ বলে বাপ ছাড় তাপ আমি যাই নাই।
জ্যোতি হ’য়ে তোর দেহে নিয়াছিরে ঠাই॥