পাতা:শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত.djvu/৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


I

'..*१ * লীলাঙ্গী বলুেন বাছ আর কঁদ মিছে। কষ্ট নহে জেষ্ঠ মরে কৃষ্ণ পাইয়াছে ৷ সাধু সঙ্গে মধু যাখা কৃষ্ণ আলাপন। হেন মর! তবে বল মরে কোন জন ৷ বিপ্র বলে তবে ওর সার্থক জীবন । মৃত দেহ,সৎকার করহ এখন । গুরু বলে মৃত দেহ দেহ গঙ্গাজলে । বিপ্ৰ দিল সাধু পদ ধৌত জলে ফেলে। অমনি জেষ্ঠীর দেহ হ’য়ে গেল লয় । মৃত দেহ না দেখিয়া সকলে বিস্ময়। কেহ বলে মৃত দেহ কি হ’ল কি হ’ল। কেহ বলে পাদোদকে প্লাবিত হইল ॥ বলিতে বলিতে জল শুকাইয়া যায় । মৃ ত দেহ না দেখিয়া সকলে বিস্ময় ॥ বৈষ্ণবের বলে দেহ মিশে গেল নীরে । হরি বলে প্রেমানন্দে সবে নৃত্য করে ॥ এমন সময় শূন্যে হ’ল দৈববাণী । আমি জেষ্ঠ পূৰ্ব্ব জন্মে ছিলাম ব্রাহ্মণী ॥ স্বামী নাম ছিল রাম কেবল ব্রাহ্মণ ৰ্ণ সৰ্ব্বদা করিত সাধু বৈষ্ণব সেবন । বড় রূপবতী আমি তখনে ছিলাম। রূপের গৌরবে স্বামী নাহি মানিতাম ॥ বৈষ্ণব সেবায় আমি ছিলাম কপট । সৰ্ব্বদা স্বামীর সঙ্গে করিতাম হট ॥ একদিন মধ্যাহিক ভোজনান্ত কালে । এক সাধু গৃহে এসে উপনীত হ’লে ৷ স্বামী গিয়া বৈষ্ণবের পূজিল চরণ। আমাকে বলিল শীঘ্র করগে রন্ধন ॥ আমি বলি এই আমি করি রন্ধন । অগ্নি তাপ আর মম না সহে এখন ॥] , স্বামী সঙ্গে ক্রোধভরে কথোপকথন । বৈঞ্চব সহিতে করি স্বামীকে ভৎসন ॥ স্বামী কহে সাধুসেবা জন্য টকটকি। জন্মান্তরে নিশ্চয় হইবি টিকটি কী ॥ কতদিন পরে মম হইল মরণ । এবে জেষ্ঠীরূপে মোর জনম ধারণ ॥ নানা ঠাই ভ্ৰমিয়া আইকু এই ঘরে । দেখি এই বিপ্ৰ সাধু সাধু সেবা কবে । * সাধু সঙ্গে নামসংকীৰ্ত্তন যবে হয়। সেমুদ্রমনাম এসে লাগে মোর গায় । f আদি খণ্ড । শরীর দ্রবিল মম বলে হরি হরি। ইচ্ছা হ’ল এই প্রেমমধ্যে পড়ে মরি ॥ " নামমন্ত্র বীজ রস ঢোকে ঢেকে খাই । ইচ্ছাতে হইল ডিম্ব সঙ্গ করি নাই । ইচ্ছা হ’ল সংকীৰ্ত্তনে পরমাণু থাকৃ। : উদর হইতে মম ডিস্ক পড়ে যাকৃ ॥ " আছাড়িয়া অঙ্গ ছাড়ি পড়িমু প্রত্যক্ষে । সে ফল পাইকু সাধুসঙ্গ কল্পবৃক্ষে ॥ এই অামি সেই মুনিপত্নী যে ছিলাম । নিজ মনসিজ বীজ কীৰ্ত্তনে পেলাম ॥ উদকে পড়িয়া দেহ উদকে মিশিল । ধনঞ্জয় বায়ু মোরে উদ্ধে আকৰ্ষিল ॥ এবে আমি দিব্য দেহ করিয়া ধারণ। পুষ্পরথে চড়ি করি বৈকুণ্ঠে গমন ॥ এই কথা প্রভুমুখে করিয়া শ্রবণ । নৃত্যকরে প্রভুর যতেক ভক্তগণ ॥ প্রভুর ভকত এক নামেতে মঙ্গল। কক্ষবাদ্য করি বলে জয় হরিবল ॥ রামচাদ আর রাম কুমার ভকত । ধরণী লোটী’য়ে কঁদে শুনি কথামৃত ॥ গোবিন্দ মতুয়া করে বাহু আস্ফোটন। নৃত্যকরে হরি বলে করেন রোদন ॥ প্রেম সম্বরণ করি বাটীর নিয়েতে। নিভৃতে বসিল পরে গম্ভীর ভাবেতে ॥ উথলিল ভক্তদের চিন্তাতরঙ্গিণী । কবি কহে সাধুমুখে মধুর’স বাণী । প্রভুর ধৰ্ম্মকন্যার বিবরণ ॥ পয়ার। ওলপুর ছিল এক দাসী দুশ্চারিণী। চৌধুরীবাটতে সেই ছিল চাকরাণী ॥ বাটীর কর্তার সঙ্গে বিবাদ করিয়া । বের হ’ল মোট মালা তিলক পরিয়া ॥ কক্ষে এক ভিক্ষণঝুলি করিয়। ধারণ। ভিক্ষা করি সেই নারী করয় ভ্রমণ ॥ " বৈষ্ণবীর বেশ ধরি হয়ে পরিপাটী । উপনীত হ’ল গিয়া ঠাকুরের বাট । দণ্ডবৎ করে গিয়া লক্ষ্মীমার পায়। বলে মাগে৷ কিছু দিন থাকিব খোয়।