পাতা:ষোল আনি (জলধর সেন).djvu/১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।


[  ]

সেদিন একাদশী। কালু মুখুয্যের বাড়ীর পাশেই তাহাদের জ্ঞাতি চণ্ডী মুখুয্যের বাড়ী। চণ্ডী বাবুর অবস্থা পূৰ্ব্বে তেমন ভাল ছিল না। তাঁহার পিতা জ্যেষ্ঠা কন্যা রমাসুন্দরীর দেবগ্রামের জমিদার হরিপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায়ের সহিত বিবাহ দেন এবং তদুপলক্ষে কিছু জমিজমা ও নগদ টাকা পান। চণ্ডী মুখুয্যের সেই জোত-জমার আয়েই চলে এবং যখন যা দরকার হয়, দেবগ্রামে দিদির নিকট চাইলেই তাহা পূর্ণ হয়। চণ্ডী বাবুর পরপর ছয়টী মেয়ের পর এবার একটী পুত্র-সন্তান হইয়াছে। ছয় মেয়ের পর ছেলে, তাহার অন্নপ্রাশনে ঘটা না করিলে কি ভাল দেখায়। তাই তিনি অনেক আত্মীয়-কুটুম্ব নিমন্ত্ৰণ করিয়াছেন। তাঁহার দিদিও এই শুভকৰ্ম্ম উপলক্ষে সুবর্ণপুরে আসিয়াছেন। জমিদার হরিপ্রসন্ন বাবুর মৃত্যু হইয়াছে; উপযুক্ত পুত্র সিদ্ধেশ্বর বাবুই এখন মালিক। মায়ের সঙ্গে সিদ্ধেশ্বর বাবুও মাতুল-পুত্রের অন্নপ্রাশন উপলক্ষে আসিয়াছেন। বলা বাহুল্য যে, এই অন্নপ্রাশনের সমস্ত ব্যয়ভারই চণ্ডী বাবুর দিদি বহন করিয়াছেন। সঙ্গে লোকজন, দাস-দাসীও অনেক আসিয়াছে। এই একাদশীর দিনই অন্নপ্রাশন। গ্রামের ভদ্র ইতর সকল লোকই নিমন্ত্রিত হইয়াছে। কালাচাঁদের বাড়ীতে আজ আর উনানে হাঁড়ি চড়াইবারই প্রয়োজন হয় নাই। মানদার একাদশী; কালাচাঁদ ও-বাড়ীর ব্যাপারেই নিযুক্ত; সুহার

১০