পাতা:সচিত্র রেল অবতার - অনাথবন্ধু সেন.pdf/২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

মুর্খস্য লাঠ্যৌষধি।

১৭

করিয়া থাকেন; বড়বাবু এ পর্যন্ত এরূপ চিঠি কখনও সহি করেন নাই—তাই কেরাণী বাবু জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন।

 বড়বাবু কিছুক্ষণ ভাবিয়া গম্ভীর ভাবে বলিলেন “এ আর তেমন কি চিঠি যে আমি সহি করতে পারব না।” এই বলিয়া সে চিঠি খানা সই করিয়া দিলেন। ভূল হওয়ার জন্য কেরাণীবাবুকে একটু তিরস্কার করিতেও ছাড়িলেন না।

 * * * 

 তার পরদিন সকালে চিঠি খানা পাইয়া গার্ড সাহেব ত একেবারে খাপ্পা। একে জরিমানার চিঠি, তা’তে কালা-বাঙ্গালীর সই। গার্ড সাহেবের রংটা খুব ফেঁকাসে না হইলেও, একটু সাদা ছিল; কাজেই তিনি কালা আদমী একবারেই দেখিতে পারিতেন না। জরিমানা হওয়ায় গার্ড সাহেব রাগে অন্ধকার দেখিতেছিলেন—তা’তে বড় সাহেবের সহি না দেখিয়া, মনে ভাবিলেন, জরিমানাটা বড় বাবুরই কাজ; বড় সাহেবকে না জানাইয়া চুপে চুপে করা হইয়াছে। এই কালা বাঙ্গালীটা, ভারী তুখড়,—ভারী পাজী।

 চিঠি খানা লইয়া গার্ড সাহেব ষ্টেশন-মাষ্টারের কাছে গেলেন। ষ্টেশন-মাষ্টার ইংরাজ, বহুদিন ধরিয়া রেলে কাজ করিতেছেন।

 গার্ডসাহেব বলিলেন—“দেখুন দেখি মশায়, একটা কালা বাঙ্গালীর আস্পর্দ্ধা! বড় সাহেবকে না জানিয়ে, আমাকে পাঁচ টাকা জরিমানা করা হয়েছে! এ রকম চিঠি সই করবার, সে