পাতা:সঞ্চয়িতা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

সোনার তরী

১৯৯

নিরুদ্দেশ যাত্রা

আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে হে সুন্দরী?
বলো কোন্ পার ভিড়িবে তোমার সোনার তরী।
যখনি শুধাই ওগো বিদেশিনী,
তুমি হাস শুধু, মধুরহাসিনী—
বুঝিতে না পারি কী জানি কী আছে তোমার মনে
নীরবে দেখাও অঙ্গুলি তুলি
অকূল সিন্ধু উঠিছে আকুলি,
দূরে পশ্চিমে ডুবিছে তপন গগনকোণে।
কী আছে হোথায়, চলেছি কিসের অন্বেষণে?

বলো দেখি মোরে, শুধাই তোমায় অপরিচিতা—
ওই যেথা জ্বলে সন্ধ্যার কূলে দিনের চিতা,
ঝলিতেছে জল তরল অনল,
গলিয়া পড়িছে অম্বরতল,
দিক্‌বধূ যেন ছলছল-আঁখি অশ্রুজলে,
হোথায় কি আছে আলয় তোমার
ঊর্মিমুখর সাগরের পার
মেঘচুম্বিত অস্তগিরির চরণতলে?
তুমি হাস শুধু মুখ-পানে চেয়ে কথা না ব’লে।

হুহু ক’রে বায়ু ফেলিছে সতত দীর্ঘশ্বাস।
অন্ধ আবেগে করে গর্জন জলোচ্ছ্বাস।
সংশয়ময় ঘননীল নীর,
কোনো দিকে চেয়ে নাহি হেরি তীর,
অসীম রোদন জগৎ প্লাবিয়া দুলিছে যেন।
তারি ’পরে ভাসে ভরণী হিরণ,
তারি ’পরে পড়ে সন্ধ্যাকিরণ—