৫ম বর্ষ, তৃতীয় সংখ্যা নব-বিদ্যালয় ১৪ ব্যায়ামচর্চার ফলে, অনেকে লাভের মধ্যে হৃদরোেগ শ্বাসরােগ প্রভৃতি অর্জন করতেন। সমুদয়ের সঙ্গে অবয়বের যােগ যে কতটা ঘনিষ্ঠ, এবং সে যােগসূত্র যে প্রাণ—এই জ্ঞানের অভাববশতঃই পালােয়ানো হয় স্বল্পায়ু, আর বালিকরেরা পঙ্গু। Horizontal Bar-য়ে পাক খেয়ে খেয়ে শরীর যে দড়ি পাকিয়ে যায়, আর Paral- lel Bar-য়ে পালায় পালায় “ফড়িং” ও “ময়ুর”-বৃত্তির সাধনা করে, তীরের মত শরীর যে ধনুকের মত হয়ে যায়, এ আমার চোখে দেখা। বৈজ্ঞানিক ব্যায়ামের চর্চায় অষ্টাবক্র হবার কোনই সম্ভাবনা নেই। এ ব্যায়ামের প্রকরণপদ্ধতি সব Ling, Muller এবং Hebert-এর বইয়ে দেখতে পাবেন। সংক্ষেপে, যে ব্যায়ামকে Swedish Drill বলা হয়—সে হচ্ছে Ling-এর আবিষ্কৃত পদ্ধতি। Muller এবং Hebert তারই সংশােধিত সংস্করণ বার করেছেন। এ বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ—সুতরাং এ ক্ষেত্রে বেশী বাক্যব্যয় করা আমার পক্ষে অমার্জনীয় অনধিকারচর্চা। তবে এই ব্যায়াম শিক্ষা দেবার পদ্ধতি সম্বন্ধে দু- এক কথা বলা আবশ্যক। নব-বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ- দের মতে, এর শিক্ষক হওয়া উচিত ডাক্তার। প্রথমতঃ, এতে প্রাণায়াম আছে; আর গুরুর অসাক্ষাতে প্রাণায়াম করলে যে মুখে রক্ত ওঠে, তার প্রমাণ আমার জানত অনেক ভদ্রসন্তান যােগ অভ্যাস কতে গিয়ে পেয়েছেন। দ্বিতীয়ত, এর ক্রিয়াগুলি নিতান্ত নীরস, কেননা এ খেলা নয়—পুরােদস্তুর শিক্ষা। নীরস বলে এ ব্যায়াম বিরক্তিকর হবার সম্ভাবনা, সুতরাং শিক্ষকের পক্ষে এর প্রতি ক্রিয়ার সার্থকতা আগে থাকতে ছেলেদের বুঝিয়ে দেওয়া কর্তব্য। হাত-পা পাগলের মত উল্টোপাল্টাভাবে কেন নাড়ছি, তার অর্থ বুঝলে
পাতা:সবুজ পত্র (পঞ্চম বর্ষ) - প্রমথ চৌধুরী.pdf/১৪৯
অবয়ব