পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কয়েক রাত এইরকম চলল। সাদিকের সব কথা আমি স্পষ্ট বুঝতাম না। সব কেমন অ্যাবসার্ড মনে হত। ধরে নিতাম ওগুলো গল্প । কিন্তু আসলে সাদিক শিরিনকে কী এক দুর্ভেদ্য চৈতন্য দিয়ে বিদ্ধ করেছিলেন। সাদিক শিরিনকে বড়ো জোর আমারই মতন খুকি মনে করতেন । মাঝে-মাঝে এমন কথা বলতেন, যা আমার সামনে বলা উচিত নয়। কিন্তু বোধহয় তিনি ফুলের গল্প, গাছপালার গল্প বলে চিন্তার একটা রকম বা পরিমণ্ডল গড়ে কাঁচা-কাঁচা কথার আদলে জীবনের একটা কনসোলেশন খুঁজে দিতে চাইতেন। ভাষার চমকপ্ৰদ বাক্যবন্ধে গুরুতর সেক্স নিয়েও আলোচনা করতেন । মানুষটা একারণেও আমার কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন । কখনও অশ্লীল কথা বলতেন না। আবার শিরিনকে যে ভালোবাসেন সে-ইচ্ছেও কখনও ধরতে দিতেন না । উনি যখন চলে যেতেন, শিরিন বড়ো কাহিল হয়ে পড়তেন । তার কথার একটা ম্যাজিক-এফেক্ট ছিল । কিন্তু তখন ধরতে পারিনি, ফিমেল লিব বলে কথাটা যে উনি বলে গেলেন, বললেন, লাজুকতা নয়, লিলি বিদ্বেষ, দৃঢ়তা, তার বিদ্রোহ, সবই একজনের অন্তরে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া এনে দিয়েছিল । বাবা যেদিন শিরিনের ঘরে ঢুকতেন তাহাজুদের নামাজশেষে, সে রাত ছিল অত্যন্ত পাশবিক । শিরিন কাঁদতেন । মনে হত, শিরিনের গায়ে জোর করে কে যেন সূচ ফুটিয়ে দিচ্ছে। এক ধরনের বোবা কান্না শোনা যেত। ধর্ষণের সময় মেয়েরা বোধহয় অমনি করে কাঁদে । মাঝে-মাঝে পশুর মতন গোঙাতেন শিরিন । মা কেবল কপালে করাঘাত করে বলতেন-মেয়েটাকে শেষ করে দিলে হাজী । মেরে ফেললে গো । আমরা ভয়ে কাঠ হয়ে থাকতাম, কিন্তু শিরিন চাইতেন ফুল ফোটাতে, পারতেন না। একদিন বললেন-আমি পারব না, মিনু । আমি পাগল হয়ে যাব । -কোন পারবে না খালামা ? তোমায় পারতেই হবে । --না, মিনু। হয় না। সাদিক আমার সব ক্ষমতা নষ্ট করে দিয়েছে। ওই গাছ আমায় মৃত্যুর কথা বলে । সমাজ আমাকে অভিশাপ দেয়, আমি কোথায় যাব ? আমি দেখেছিলাম, শিরিনের কনট্রাডিকশন সদিকের ক্যাটেগরি অব থটুস-এর মধ্য থেকে সংক্রামিত। লিলির বিদ্বেষ এবং বউলের প্রার্থনা একসাথে মেলে না । লোকটিকে আমার ভয়ও হয়েছিল । তাঁর সফিসটিকেশন, একটা মায়াজড়ানো জাল, বিভ্রান্ত দর্শনের ছায়া, পরস্পরবিরোধী মূল্যবোধের মিশেল, যা মানুষকে সাময়িক মুগ্ধতা এবং সাত্বনা দেয়। আখেরে কোথায় টানে কে জানে । পরে একথা আমার কাছে আরো স্পষ্ট হয়েছিল । à è à