পাতা:স্রোতের গতি - ইন্দিরা দেবী (১৯২১).pdf/২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১৮

স্রোতের গতি

কি উঁহারই কর্ত্তব্য ছিল না? মনে হইল, জগতের পুরুষমাত্রই তবে এমনই অন্তঃসারশূন্য। সন্তানবাৎসল্য উহাদের স্বার্থের দ্বারে মাথা গলাইতে পারে না। সঙ্গে সঙ্গে স্বর্গীয় পিতৃমূর্ত্তি স্মরণ হওয়ায় সত্যবতী মনে মনে প্রণাম করিয়া ভাবিলেন—“বাবা ত সাধারণ পুরুষদের আদর্শ ছিলেন না। তাই চোদ্দ বছর মৃত স্ত্রীর স্মৃতির গৌরব রক্ষা করেছিলেন। আর অমির বাপ,— ছিঃ।”—সত্যবতী সবেগে চিন্তার ধারা ফিরাইয়া লইলেন। অমিয়াকে, যদি সম্ভব হয়, তিনি আজীবন অনূঢ়াই রাখিয়া দিবেন। পুরুষের ছদ্মবেশ-ভেদের দক্ষতালাভে যখন তাঁহার পিতাও সমর্থ হন নাই, তখন তাঁহারই বা আশা কোথায়? কোন্ অকৃতজ্ঞ হৃদয়হীন পুরুষের হাতে তিনি তাঁহার এই লােকললামভূতা স্নেহের ধনকে তুলিয়া দিবেন? লােকনিন্দা সমাজচ্যুতি—তা সে মাথার মণি করিয়া সগর্ব্বে বহন করিবেন—তবু প্রাণ ধরিয়া পাষাণের কণ্ঠে মুক্তামালা দুলাইবেন না।

 সত্যবতীর মনে পড়িতেছিল তাঁহার বাল্যসখী কিরণের কথা। আহা, অভাগিনি কিরণ! রূপ দেখিয়া বিনা পণে যে দিন ধনীগৃহে তাহাকে লইয়া যায়, পাড়ার লােকে বলিয়াছিল,— “কিরণের বাপ ভারী জিতিয়াছে।” কিন্তু