যে দেশের লোকের যে কালে যে প্রকার হেম্মত থাকে, সে দেশে সে সময় সেই প্রকার কর্ম্মকাণ্ড, আমোদ প্রমোদ ও কার কারবার প্রচলিত হয়। দেশের লোকের মনই সমাজের লোকোমোটিবের মত, ব্যবহার কেবল ওদেরকর্কের কাজ করে। দেখুন, আমাদের পুর্ব্ব পুরুষেরা বঙ্গভূমি প্রস্তুত করে মল্লযুদ্ধে আমোদ প্রকাশ কত্তেন, নাটক ত্রোটকের অভিনয় দেখ্তেন, পরিশুদ্ধ সঙ্গীত ও সাহিত্যের উৎসাহ দিতেন; কিন্তু আজ কাল আমরা বারোইয়ারিতলায়, নয় বাড়ীতে, বেদেনীর নাচ ও “মদন আগুণের” তানে পরিতুষ্ট হচ্চি, ছোট ছোট ছেলে ও মেয়েদের অনুরোধ উপলক্ষ করে, পুতুল নাচ, পাঁচালী ও পচা খেঁউড়ে আনন্দ প্রকাশ কচ্চি, যাত্রা ওয়ালাদের “ছকুবাবু ও” সুন্দরের “সং নাবাতে হুকুম দিচ্চি। মল্ল যুদ্ধের তামাসা “দ্যাখ বুল্ বুল্ ফাইট” ও “ম্যাড়ার লড়াবে” পর্যবসিত হয়েছে। আমাদের পূর্ব্ব পুরুষেরা পরস্পর লড়াই করেচেন, আজকাল আমরা সর্ব্বদাই পরস্পরের অসাক্ষাতে নিন্দাবাদ করে থাকি, শেষে অ্যাক্পক্ষের “খেঁউড়ে” জিত ধরাই আছে।
আমাদের এই প্রকার অধঃপতন হবে না ক্যান? আমরা হামা দিতে আরম্ভ করেই ঝুমী, চুষী ও শোলার পাখীতে বর্ণপরিচয় করে থাকি, কিছু পরে ঘুড়ি, লাটিম, লুকোচুরী ও বৌ বৌ খ্যালাই আমাদের যুবত্বের এন্ণ্টন্স কোর্শ হয়, শেষে তাস্, পাশা ও বড়ে টিপে মাত্ করে ডিগ্রী নিয়ে বেরুই। সুতরাং ঐ গুলি পুরোনো পড়ার মত কেবল চিরকাল আউড়ে আস্তে হয়; বেশীর ভাগ বয়সের