শঙ্খচূড় বলে আমি দেখেছি নয়নে।
ঐ কাল শিশু বধেছে কৌবল-জীবনে॥
ঐ কাল শিশু হয়ে পর্ব্বত-আকার।
কৌবলের দন্ত ধরি করিল বিদার॥
স্বচক্ষে দেখেছি আমি শুন হে রাজন।
হস্তী বধি শিশুরূপ করেছে ধারণ॥
ঐ কালটি দুষ্টের শেষ শুন নরবর।
ঐ কালটী বধেছে তব কৌবল কুঞ্জর॥
অতি শান্ত দান্ত শিশু শ্বেতবর্ণ যিনি।
ঐ কালটীর প্রায় দুষ্টের শিরোমণি॥
শঙ্খচূড়-বধ।এই কথা শঙ্খচূড় বলিল যখন।
ক্রোধাভরে বলেন তখন দেব নারায়ণ॥
শ্রীহরি বলেন শুন ওরে শঙ্খচূড়।
মুষ্ট্যাঘাতে তোমার এবার দর্প করিব চূর॥
ইহা বলি ক্রোধভরে দেব গদাধর।
মুষ্ট্যাঘাত করে তার মস্তক উপর॥
পড়িল যে শঙ্খচূড় ভূতলে লোটায়।
শঙ্খচূড়-বধ-গীত সরকার গায়॥
শঙ্খচূড় বধ করে দেব হৃষীকেশ।
যজ্ঞস্থলে শ্রীকৃষ্ণ করিলেন প্রবেশ॥
বসিয়াছে কংসরায় যজ্ঞ ভাবি হৃষ্ট।
কংসের সভায় গিয়া দাণ্ডাইল কৃষ্ণ॥
দর্শনার্থে দরশন উভয়ের হইল।
কংস কৃষ্ণ দেখিল কৃষ্ণ কংসে দেখিল॥
কংস বলে শুন ওরে পাগল দুর্জ্জন।
কৌবল-বধে কার বল করেছ ধারণ॥
রাজার কৌবল বধ ভয় নাই মনে।
এখনি পাঠাব তোরে যমের সদনে॥
পূতনা স্ত্রীহত্যা বধ করেছ দুরাচার।
সেই পাপ আসি তোরে করিল সঞ্চার॥
কারাগারে ভূমিষ্ঠ হইয়া দুরাচার।
আমার ভয়েতে তুমি যমুনা হৈলে পার॥
পাতা:Vanga Sahitya Parichaya Part 1.djvu/১০৫৯
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ভাগবত—ঈশ্বরচন্দ্র সরকার—১৯শ শতাব্দী।
৯২৯
১১৭