প্রহাসিনী/কালান্তর
কালান্তর
তোমার ঘরের সিঁড়ি বেয়ে
যতই আমি নাবছি
আমায় মনে আছে কিনা
ভয়ে ভয়ে ভাবছি।
কথা পাড়তে গিয়ে দেখি,
হাই তুললে দুটো;
বললে উসুখুসু করে,
“কোথায় গেল নুটো।”
ডেকে তাকে বলে দিলে,
“ড্রাইভারকে বলিস,
আজকে সন্ধ্যা নটার সময়
যাব মেট্রোপলিস।”
কুকুরছানার ল্যাজটা ধরে
করলে নাড়াচাড়া;
বললে আমায়, “ক্ষমা করো,
যাবার আছে তাড়া।”
তখন পষ্ট বোঝা গেল,
নেই মনে আর নেই।
আরেকটা দিন এসেছিল
একটা শুভক্ষণেই—
মুখের পানে চাইতে তখন,
চোখে রইত মিষ্টি;
কুকুরছানার ল্যাজের দিকে
পড়ত নাকে। দৃষ্টি।
সেই সেদিনের সহজ রঙটা
কোথায় গেল ভাসি;
লাগল নতুন দিনের ঠোঁটে
রুজ-মাখানো হাসি।
বুটসুদ্ধ পা-দুখানা
তুলে দিলে সোফায়;
ঘাড় বেঁকিয়ে ঠেসেঠুসে
ঘা লাগালে খোঁপায়।
আজকে তুমি শুকনো ডাঙায়
হালফ্যাশানের কূলে,
ঘাটে নেমে চমকে উঠি
এই কথাটাই ভুলে।
এবার বিদায় নেওয়াই ভালো,
সময় হল যাবার—
ভুলেছ যে ভুলব যখন
আসব ফিরে আবার।
শান্তিনিকেতন
১৩ শ্রাবণ, ১৩৪৭