রসকেলী/তৃতীয় ছাঁদ

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


তৃতীয় ছাঁদ~

যমুনা কূলরে শ্রীকৃষ্ণ বসি।
পুণি বজাইলে মোহন বাঁশী॥
কে বোলে ডাকুছি যশোদা ৰছি।
বংশী স্বরে সে যে ডাক দেউছি॥
কে বোলে যাইবি শ্রীকৃষ্ণ কতি।
ভাই ভাউজঙ্কর ন মানি ভীতি॥
কে বোলে যাইবি যমুনা কূলে।
কেলী করিবা যে যমুনা জলে॥
কে বোলে শ্ৰীকৃষ্ণ কতিকু যিবা৷
ভোর ন হইতে ফেরি আসিবা॥

পুণ বংশী স্বর শুণে গোয়ালী।
ইচ্ছা যে করিলে যিবে উগালী॥
ঘররে অছই স্বামী করতা।
কেমন্তে যাইবে করই চিন্তা॥
ডাকই শ্রীকৃষ্ণে কর গো ত্রাহি।
কেনন্তে যিবা গো গোপী ডাকই॥
রাই রাধিকার মনরে চিন্তা।
কেমন্তে যিবা গো কহ বিধাতা॥
হে হরি তুম্ভে যে মোহব্র সখা।
উপায় নাহি মো করহ রক্ষা॥
স্বামী শুইঅছি ঘর দুয়ারে।
ননদ শ্বাশুড়ী ঘর ভিতরে॥
এতে কহি রাধা হরিঙ্কু ডাকে।
ডাক দেই সে যে মনরে কুপে॥

চিন্তা দূর করি বাহারে রাধা।
দূর হোই গলা সমস্ত বাধা॥
দেখিলা স্বামীর নিদ্রা অঘোর।
রাধিকা সধীরে হেলে বাহার॥
সাজ সজ্জ্বা হেলা সবু অলঙ্কারে।
মহল পরিলা বেণি পয়রে॥
হস্তরে নেলা চুড়ী বটফল।
গলারে ঘেনিলা নানাধি মাল॥
আউরি নেলা যে ঝুটিয়া মুদী।
বস্ত্র যে পিন্ধিলা ক্ষীরোদ আদি॥
অণ্টারে সে নেলা ঝিঞ্জিরি কেড়া।
মথারে ঘেনিলা মোহন চুড়া॥
বলা বাজুবন্ধ ঘেনিলা করে।
নেপুর ঘেনিলা পদ্ম পয়রে॥

গলারে ঘেনিলা পোহলা ছড়া।
বেণীরে সে দেলা মালতী বেড়া॥
অলতা যে নেলা পাদপদ্মরে।
যেসনে দিশই বিজলী প্রায়ে॥
আবর কেতে যে সাজ হোইলা।
আউরি শোভা যে কেতে কহিবা॥
এতে যে ঘেনিলা সবু গোপনে।
স্বামী ননদ কেহি ন জাণে॥
সবু গোপীমানে সজ হোইলা।
দাণ্ডে যাই সর্ব্বে গোটায়ে হেলা॥
কে বোলে স্বামী মোন জাণে কিছি।
ধীরে ধীরে মু যে লুচি আসিছি॥
কে বোলে স্বামী মো বড় উদার।
ভল মন্দ তাঙ্ক নাহি বিচার॥

কে বোলে আসিছি খিড়িকি দেই।
শাশু ননদ যে ন জাণে কেহি॥
এমন্তে আগম কহে গুহালি।
শ্ৰীহরিঙ্কু সৰ্ব্বে মনরে ভালি॥
এতে কহি সৰ্ব্বে গমন কলা।
ধীরে ধীরে বংশী বাজি উঠিলা॥
হুড়াহুড়ি করি সৰ্ব্বে গোপালী।
পথ বাট যে কিছি ন মানই॥
শ্ৰীকৃষ্ণকু স্মরি বেগেণ ধাঁই।
কণ্টা খঞ্চা যে কিছি ন দিশই॥
এমন্ত ধাঁইণ যমুনা কূলে।
কুল ছাড়ি সৰ্ব্বে এক হোইলে॥
খুজই সমস্তে শ্ৰীকৃষ্ণ কাঁহি।
খুজিণ তীররে কাঁহি ন পাই॥

এক্ষুণি কৃষ্ণর বাঁশী বাজিলা।
কেহ্নে যাই সে যে লুচিণ গলা॥
এমন্ত সময়ে গছ উপরে।
শ্ৰীকৃষ্ণ উঠিণ চাতুরী করে॥
গোপীমানে খুজি দূরকু গলা।
এমন্ত সময়ে বাঁশী বাজিলা॥
গোপীঙ্ক সঙ্গরে খেলার পাঁই।
বাঁশী বজাইলে গছরে থাই॥
বাঁশী শব্দ শুনি পাগল হোই।
এক আর সৰ্ব্বে চাঁহিণ রই॥
কেঠারে উঠিলা বংশীর ধ্বনি।
কাঁহি রহি গলা নন্দর ননী॥
নন্দর পুঅ সে অতি চতুর।
কেহ্নে লুচি গলা সে দণ্ডধর॥

খুজি খুজি সর্ব্বে অস্থির হোই।
কদম্ব মূলরে মিলিলা যাই॥
কাতর হোইণ সেঠারে শুই।
বিনয়ে কৃষ্ণকু কেতে ডাকই॥
আসিণ শ্ৰীহরি রখ মো প্ৰাণ।
ন আসিলে তুম্ভে যিব জীবন॥
স্বামী ঘর ছাড়ি তুম্ভে ধইলে।
কাঁহি তুম্ভে গল কি দোষ কলে॥
কুলরু বাহারি যমুনা কূলে।
বাহার হোইছি তুম্ভর মেলে॥
আম্ভমানঙ্কু যদি দেখা ন দবু।
ন রাখিলে মোতে গল মো সবু॥
কেতে রঙ্গে তূম্ভে মেল করিল।
বিপদ সময়ে ছাড়িণ গল॥

এ পাপ তুম্ভর কাঁহি রখিব।
দেখা ন দেলে যে নিশ্চে ফলিব॥
এমন্ত বিনয় কাকুতি শুণি।
বাঁশী বজাইলে কদম্বে পূণি॥
তাহা শুণি সবু গোপর বালী।
কদম্ব উপরে চাঁহে সকলি॥
দেখিণ কৃষ্ণকু কদম্ব পরে।
হঁস যে আসিলা মন অধ্যারে॥
শ্রীকৃষ্ণকু দেখি সৰ্ব্ব গোপালী।
মনরে করিলে করিবে কেলী॥
শ্ৰীকৃষ্ণে ডাকই উহ্লিণ আস।
উহ্লি আসি তুম্ভে হো পাখেবস॥
এতে ছলিয়া যে ছল তু কলু।
এবে যে মো দেহে প্ৰাণ আণিলু॥

এমন্ত শুণিণ রসরে ভরা।
মনরে ভাবিলে করিবা সারা॥
সহস্ৰ বরষ ধ্যান করিণ।
গোপালী পাইলে তাঙ্কু খুজিণ॥
মুনি ঋষিমানে ধিয়ই যাকু।
গোপী যে ঘেরিণ রহিলে তাঙ্কু॥
এমন্ত কৰ্ম্মর ফল গো শুণ।
স্বামী রূপে তাঙ্কু পাইছি জাণ॥
দেখিতে কৃষ্ণঙ্ক লীলার লেশ।
হুঅই দেবঙ্ক মনরে আশ॥
গোপী লীলা কলে ছাড়িণ লাজ।
শরনে পশিলা মুরারী দ্বিজ॥