বিষয়বস্তুতে চলুন

সুকুমার সমগ্র রচনাবলী (প্রথম খণ্ড)/আবোল তাবোল/দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম

উইকিসংকলন থেকে












মাসি গো মাসি, পাচ্ছে হাসি
নিম গাছেতে হচ্ছে শিম্—
হাতির মাথায় ব্যাঙের ছাতা
কাগের বাসায় বগের ডিম॥

বল্‌ব কি ভাই হুগ্‌লি গেলুম,
বল্‌ছি তোমায় চুপি-চুপি—
দেখতে পেলাম তিনটি শুয়োর
মাথায় তাদের নেইকো টুপি॥

দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম

ছুটছে মোটর ঘটর ঘটর ছুটছে গাড়ী জুড়ি;
ছুটছে লোকে নানান্ ঝোঁকে করছে হুড়োহুড়ি;
ছুট‌ছে কত ক্ষ্যাপার মত পড়ছে কত চাপা—
সাহেব মেম থম্‌কে থেমে বলছে ‘মামা! পাপা!’
আমরা তবু তবলা ঠুকে গাচ্ছি কেমন তেড়ে।
“দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম্! দেড়ে দেড়ে দেড়ে!”

বর্ষাকালের বৃষ্টিবাদল রাস্তা জুড়ে কাদা,
ঠাণ্ডা রাতে সর্দিবাতে মরবি কেন দাদা?
হোক্ না সকাল হোক্ না বিকেল
 হোক্ না দুপুর বেলা,
থাক্‌ না তোমার আফিস যাওয়া
 থাক্ না কাজের ঠেলা―
এই দেখ না চাঁদ্‌নি রাতের গান এনেছি কেড়ে,
“দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম্! দেড়ে দেড়ে দেড়ে!”

মুখ্যু যারা হচ্ছে সারা পড়ছে ব’সে একা,
কেউ-বা দেখ কাঁচুর মাচুর
 কেউ বা ভ্যাবাচ্যাকা;
কেউ বা ভেবে হদ্দ হল, মুখটি যেন কালি;
কেউ বা ব’সে বোকার মত মুণ্ডু নাড়ে খালি।
তার চেয়ে ভাই, ভাবনা ভুলে গাও না গলা ছেড়ে,
“দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম্! দেড়ে দেড়ে দেড়ে!”

বেজার হয়ে যে যার মত করছ সময় নষ্ট,
হাঁটছ কত খাটছ কত পাচ্ছ কত কষ্ট!
আসল কথা বুঝছ না যে, করছ না যে চিন্তা,
শুনছ না যে গানের মাঝে তব্‌লা বাজে ধিন্‌তা?
পাল্লা ধ’রে গায়ের জোরে গিটকিরি দাও ঝেড়ে,
“দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম্! দেড়ে দেড়ে দেড়ে!”