পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এই সব গ্রাম ম্যালেরিয়ার সষ্টি করে। যাহারা পারে, তাহারা সপরিবারে গ্রাম ত্যাগ করিয়া হেরে যাইয়া বাস করে। কলেজে শিক্ষিত সম্প্রদায় অন্যত্র কেরাণীগিরি করিয়া জীবিকা মঞ্জন করে, সতরাং তাহারাও গ্রামত্যাগী, ভদ্রলোকদের মধ্যে যাহারা অলস ও পরজীবী তাহারা এবং কৃষকগণই কেবল স্ট্রামে থাকে। গ্রামত্যাগী জমিদারগণ কলিকাতার চৌরঙ্গী অঞ্চলে বাসা বধিয়া বৰ্তমান সভ্য জীবনের আধুনিকতম অভ্যাসগুলিও গ্রহণ করিয়াছে। (৩) এই সব সভ্য জমিদারদের সসজিত বৈঠকখানায় স্বদেশজাত আসবাব প্রায়ই দেখিতে পাওয়া যায় না। তাঁহাদের “গ্যারেজে” “রোলস রয়েস" বা “ডজ” গাড়ী বিরাজ করে। আমি যখন এই কয়েক পংকি লিখিতেছি, তখন আমার মনে পড়িতেছে, একখানি জাতীয়তাবাদী সংবাদপত্রের কথা, ইহার পরা এক পঠায় মোটরগাড়ীর বিজ্ঞাপন থাকে—উহার শিরোনামায় লিখিত থাকে—“বিলাস ও ঐশ্বষের আধার।” এই বিজ্ঞাপন আমাদের পাশ্চাত্য ভাবাপন্ন জমিদার ও ব্যারিস্টারদের মন প্রলুব্ধ করে। § বড় বড় ইংরাজ বণিক অথবা মাড়োয়ারী বণিকেরা এই সব বিলাস ভোগ করে বটে, কিন্তু তাহারা ব্যবসায়ী লোক। হয়ত ৫। ৭টা জন্ট মিলের দালাল বা ম্যানেজিং এজেণ্টরপে তাহাদিগকে বজবজ হইতে ককিনাড়া পৰ্যন্ত দৌড়াইতে হয়। সতরাং তাহাদের দৈনিক কাযের জন্য তাহাদিগকে দই একখানি মোটর গাড়ী রাখিতে হয়। (৪) তাহারা যাহা ব্যয় করে, তাহা অপেক্ষা শত গণে বা সহস্র গণ অথ* অজন করে। এবং বহুক্ষেত্রে তাহারা প্রকৃতই ধনোৎপাদক। কিন্তু আমাদের পাশ্চাত্যভাবাপন্ন জমিদারগণ বা বারের বড় ব্যারিস্টারেরা" " পরজীবী মাত্র। তাহারা দেশের ধন এক পয়সাও বন্ধি করে না, উপরন্তু দেশের কৃষকদের (৩) ১৮৫৪ খৃস্টাব্দে অযোধ্যা বৃটিশ অধিকারভুক্ত হয়। ইতিমধ্যেই গ্রামত্যাগী জমিদার দল সেখানে দেখা দিয়াছে। “তালুকদারেরা প্রজাদের জ্যেষ্ঠভ্রাতার মত, এই কথার এখন কি মাল্য আছে ? আমি বলিতে বাধ্য যে, আমরা কোন কোন বয়স্ক প্রজাকে দেখিলাম, যাহারা সেকালের কথা এখনও স্মরণ করে। তখন তাহারা তালুকদারের আশ্রয়ে বাস করিত। এই তালুকদারেরা জমিদারীতেই বাস করিত। তাহাদের চক্ষ-কৰ্ণ সবদা সজাগ থাকিত এবং নিজেরা ব্যতীত অন্য কাহাকেও প্রজাদের উপর অত্যাচার, উৎপীড়ন করিতে দিত না। কিন্তু তাহারা গত ৩০ বৎসরের মধ্যে লক্ষেী সহরে বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করিয়া বাস করিতেছে, আর নায়েব গোমস্তা প্রভৃতি অধস্তন কর্মচারীরা তাহাদের জমিদারী চালাইতেছে —গোইন, “ইন্ডিয়ান পলিটিক্স”—২৬২-৬৩ পঃ। প্রসিদ্ধ ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁহার “পল্লীসমাজে” বর্তমানকালের ভাব তাঁহার కౌ ! আর এ সদ্য প্রকাশিত উপন্যাসে (পবিদ্যাংলেখা—প্রফুল্লকুমার সরকার), বাগলার င္ဆိုႏိုင္ငံ ႏိုင္ဆိုႏိုင္ဆိုႏိုင္ဆိုႏိုင္ရန္ဟီး ္ရန့္စ္ဝက္ခ္ရင္သူ့ ့ ့ ့ ့ ့ ့ ့ ့ ့ ့ ့ ့ ့; করিবার তাহারা কিরপে প্রাণপণে প্রতিরোধ করে, এমন কি পাকরিণী-সংস্কার পর্যন্ত করিতে দেয় না, এই সব কথা চিত্রিত হইয়াছে। এখানে নতন ভাব ও আদশ লইয়া তীব্র সমালোচক। পাঁচ বৎসর বাগেট নামক স্থানে তিনি বলেন,—“যদি ব্যক্তিগত সম্পত্তি না , তবে একজন কাউণ্টি জজেরও মোটর গাড়ী রাখিবার অধিকার নাই, কেননা কেবল তাহার বেতন (বার্ষিক ১৫০০ পাউণ্ড) মোটর রাখিবর পক্ষে ৰথেষ্ট নহে।