পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আন্দোলন উঠিয়াছিল ও শিবকৃষ্ণ দত্ত নামে একজন যােবক সব প্রথম রাহমাধ্যমের বাতৰি আমাদের গ্রামে লইয়া যান, তাহা পাবেই বলিয়াছি। তাঁহার পিতা ব্ৰজনাথ দত্ত এক জন উদারচেতা বিষয়ী লোক ছিলেন, পন্ডিতগণের সহিত সবাদা শাস্ত্র আলোচনা করিতে ভালোবাসিতেন। তিনি কলিকাতা ব্ৰাহসমাজের প্রকাশিত তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা লইতেন, ইহাও পাবে বলিয়াছি। সে সময়ে আমাদের গ্রামের বড় উন্নতির অবস্থা ছিল। সাধারণ ব্রাহাসমাজের অন্যতম আচাৰ্য আরাধ্য ভক্তিভাজন উমেশচন্দ্ৰ দত্ত, শ্রমেধয় বন্ধ কালীনাথ দত্ত, হরনাথ বস, রমানাথ ঘোষ প্রভৃতি শিবকৃষ্ণ দত্তের দাম্পটন্ত ও প্রভাবে ব্রাহমাধমের অন্যরাগী হইয়া ব্ৰাহমাধ্যম অনসারে আনন্ঠানাদি করিতে অগ্রসর হইয়াছিলেন। সেজন্য গ্রামে মহা আন্দোলন ও এই যবকদিগের প্রতি মহা নিযাতন উপস্থিত হয়। সেই নিযাতনের মধ্যে ইহারা বীরের ন্যায় দপডায়মান ছিলেন। সেজন্য আমরা গ্রামবাসী যবকগণ মনে মনে ইহাদিগকে অতিশয় শ্রদ্ধা ১৮৫৯ সালে আমাদের গ্রামপ্রবাসী টাকীনিবাসী ডাক্তার প্রিয়নাথ রায় চৌধরিীর যত্নে ও ব্রাহমাদিগের সাহায্যে এক বালিকা বিদ্যালয় পথাপিত হয়। বিদ্যালয়টি সাথাপিত হওয়া মাত্র আমার মা আমার ভগিনী দিগকে তাহাতে প্রেরণ করিয়াছিলেন। প্রিয়নাথবােব গ্রাম হইতে চলিয়া গেলে, স্কুলটি রক্ষার ভার ব্রাহ। যবকগণের উপরে পড়িল। গ্রামে ব্রাহমনিযাতন। কিন্তু ইহার কিছ কাল পরে যখন উমেশচন্দ্র দত্ত, হরনাথ বাস ও কালীনাথ দত্ত প্রভৃতি ব্ৰাহম যােবকগণ মৌরসী পাট্টাতে খাজনা করিয়া একটি জমি লইলেন, এবং তাহাতে স্কুলের জন্য একটি ঘর নিমাণ করিতে প্রবত্ত হইলেন, তখন জমিদারবাবরা তাহার বিরোধী হইয়া দাঁড়াইলেন, এবং বিধিমতে সে কাযে। বাধা দিতে লাগিলেন। ব্ৰাহম যােবকগণ স্কুলঘর নিমাণের জন্য শালতি করিয়া সন্দরবনের ভিতর হইতে খাটি ও বেড়ার হোতাল প্রভৃতি আনাইলেন। গ্রামের পাব পাশেব খালের মধ্যে শালতি আসিয়া দাঁড়াইল। রাহম, যবকগণ সংবাদ পাইয়া খাটি প্রভৃতি আনিতে গেলেন। গিয়া দেখেন, চারিদিকের শ্রমজীবী লোকের প্রতি জমিদারবাবদের 'হকুম দিয়াছে, খটি প্রভৃতি কেহ বহিয়া দিবে না। তাঁহারা অনেক অন্যাসন্ধান করিয়া এবং প্রলোভন দেখাইয়াও মন্টে মজার পাইলেন না। অবশেষে কালীনাথ দত্ত, হরনাথ বস প্রভৃতি কাঁধে কারিয়া খাঁটি প্রভৃতি বহিয়া স্কুলের জমিতে লইয়া যাইতে লাগিলেন। গ্রামের লোকে দেখিয়া আশচযান্বিত হইতে লাগিল এবং চারিদিকে আলোচনা আরম্ভ হইল। কিন্তু তাঁহারা খাটি প্রভৃতি আনিয়া দেখেন যে, ঘর নিমাণের জন্য যে-ঘরামিদিগকে ঠিক করিয়া রাখিয়াছিলেন, তাহারা জমিদারবাবদের আদেশে ঘরামির কাজ হইতে নিবত্ত হইয়াছে। তখন ব্ৰাহম যবকগণ কোমর বধিয়া নিজেরাই ঘরামির কাজ করিতে প্ৰবত্ত হইলেন। তৎপর দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই কাজে প্রবত্ত রহিলেন। তাঁহারা জমি মাপিয়া, খটি প্রভৃতি পতিয়া রাত্রে ঘরে গেলেন। প্রাতে আসিয়া দেখেন যে তাঁহাদের পোঁতা খাটি প্রভৃতি নাই, তৎপরিবতে' জমির এক পাশেব একখানি ছোট খড়ের ঘর বাঁধা রহিয়াছে! দেখিয়া আশ্চর্যান্বিত হইয়া নিকটবতীর্ণ পাড়ায় কারণ অন্যাসন্ধান করিয়া জানিলেন যে, শািকর মোল্লা নামক জমিদারবাবদের এক চাকর রাতারাতি ঐ ঘর বধিয়া ভোরে ব্ৰাহম যািবকদের খাটিগলি তুলিয়া কাঁধে করিয়া লইয়া গিয়াছে। বালিকা বিদ্যালয়ের পন্ডিতমহাশয় এবং অপর গ্রাম হইতে yo 宿