পাতা:আনন্দমঠ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


.* * * r.: - ** _* - . - - - * . . * . श्रांनझमठे ... o ব্ৰহ্মচারী বলিলেন, “যবে মার সকল সস্তান মাকে মা বলিয়া ডাকিবে, সেই দিন

মহেশ্র সহসা জিজ্ঞাসা করিলেন, “আমার স্ত্রী কস্তা কোথায় ?”

মহেশ্র । তাছাদের একবারমাত্র আমি দেখিয়া বিদায় দিব । ব্ৰহ্ম । কেন বিদায় দিবে ? ম। আমি এই মহামন্ত্র গ্রহণ করিব । মহেশ্র কিয়ৎক্ষণ চিন্তু করিয়া কহিলেন, “আমার গৃহে কেহ নাই, আমার আর স্থানও নাই। এ মহামারীর সময় আর কোথায় বা স্থান পাইব ।” ব্ৰহ্ম । যে পথে এখানে আসিলে, সেই পথে মন্দিরের বাহিরে যাও । মন্দির-দ্বারে তোমার স্ত্রী কস্তাকে দেখিতে পাইবে। কল্যাণী এ পর্যন্ত অভুক্ত। যেখানে তাহার বসিয়া আছে, সেইখানে ভক্ষ্য সামগ্রী পাইবে । তাহাকে ভোজন করাইয়া তোমার যাহা অভিরুচি, তাহা করিও, এক্ষণে আমাদিগের আর কাহারও সাক্ষাৎ পাইবে না । তোমার মন যদি এইরূপ থাকে, তবে উপযুক্ত সময়ে, তোমাকে দেখা দিব। তখন অকস্মাৎ কোন পথে ব্রহ্মচারী অস্তৰ্হিত হইলেন। মহেন্দ্ৰ পূৰ্ব্বপ্রদৃষ্ট পথে নির্গমনপূর্বক দেখিলেন, নাটমন্দিরে কল্যাণী কন্যা লইয়া বসিয়া আছে। এদিকে সত্যানন্দ অন্য স্বরঙ্গ দিয়া অবতরণপূর্বক এক নিভৃত ভূগর্ভকক্ষায় নামিলেন। সেখানে জীবানন্দ ও ভবানন্দ বসিয়া টাকা গণিয়া থরে থরে সাজাইতেছে। সেই ঘরে ভূপে স্থূপে স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র, হীরক, প্রবাল, মুক্ত সজ্জিত রহিয়াছে। গত রাত্রেঃ লুঠের টাক, ইহারা সাজাইয়। রাখিতেছে। সত্যানন্দ সেই কক্ষমধ্যে প্রবেশ করিয়া বলিলেন, “জীবানন্দ । মহেন্দ্ৰ আসিবে। আসিলে সস্তানের বিশেষ উপকার আছে। কেন না, তাহা হইলে উহার পুরুষানুক্রমে সঞ্চিত অৰ্থরাশি মার সেবায় অর্পিত হইবে। কিন্তু যত দিন সে কায়মনোবাক্যে মাতৃভক্ত না হয়, তত দিন তাহাকে গ্রহণ করিও না । তোমাদিগের হাতের কাজ সমাপ্ত হইলে তোমরা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে উহার অনুসরণ করিও, সময় দেখিলে উহাকে ঐবিষ্ণুমণ্ডপে উপস্থিত করিও । আর সময়ে হউক, অসময়ে হউক, উহাদিগের প্রাণ রক্ষা করিও । কেন না, যেমন ঘষ্টের শাসন সস্তানের ধৰ্ম্ম, শিষ্টের রক্ষাও সেইরূপ ধৰ্ম্ম ।”