পাতা:আনন্দমঠ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রথম খণ্ড-দ্বাদশ পরিচ্ছেদ రిగ్రీ সুকুমারী মনে করিল, এটি বেশ খেলিবার জিনিস। কোঁটাটি একবার বা হাতে ধরিয়া দাহিন হাতে বেশ করিয়া তাহাকে চাপড়াইল, তার পর দাহিন হাতে ধরিয়া বঁ। হাতে তাহাকে চাপড়াইল । তার পর স্থই হাতে ধরিয়া টানাটানি করিল। সুতরাং কৌটাটি খুলিয় গেল—বড়িটি পড়িয়া গেল। বাপের কাপড়ের উপর ছোট গুলিটি পড়িয়া গেল—সুকুমারী তাহ দেখিল, মনে করিল, এও আর একটা খেলিবার জিনিস। কোটা ফেলিয়া দিয়া থাবা মারিয়া বড়িটি তুলিয়া লইল । কোঁটাটি সুকুমারী কেন গালে দেয় মাই বলিতে পারি ন!—কিন্তু বড়িটি সম্বন্ধে কালবিলম্ব হইল না। প্রাপ্তিমাত্রেণ ভোক্তব্য—মুকুমারী বড়িটি মুখে পুরিল । সেই সময় তাহার উপর মার নজর পড়িল । “কি খাইল ! কি খাইল । সৰ্ব্বনাশ !” কল্যাণী ইহা বলিয়া, কন্যার মুখের . ভিতর আঙ্গুল পুরিলেন। তখন উভয়েই দেখিলেন যে, বিষের কোট খালি পড়িয়া আছে। স্বকুমারী তখন আর একটা খেলা পাইয়াছি মনে করিয়া দাত চাপিয়া—সবে গুটকত দাত উঠিয়াছে—মার মুখপানে চাহিয়া হাসিতে লাগিল। ইতিমধ্যে বোধ হয়, বিষবড়ির স্বাদ মুখে কদৰ্য্য লাগিয়াছিল ; কেন না, কিছু পরে মেয়ে আপনি দাত ছাড়িয়া দিল; কল্যাণী বড়ি বাহির করিয়া ফেলিয়া দিলেন । মেয়ে কাদিতে লাগিল । বটিক মাটিতে পড়িয়া রহিল। কল্যাণী নদী হইতে আঁচল ভিজাইয়। জল আনিয়া মেয়ের মুখে দিলেন। অতি সকাতরে মহেন্দ্রকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “একটু কি পেটে গেছে ?” মন্দটাই আগে বাপ মার মনে আসে—যেখানে অধিক ভালবাসা, সেখানে ভয়ই অধিক প্রবল। মহেন্দ্র কখন দেখেন নাই যে, বড়িটা আগে কত বড় ছিল। এখন বড়িটা হাতে লইয়া অনেকক্ষণ ধরিয়া নিরীক্ষণ করিয়া বলিলেন, “বোধ হয় অনেকটা খাইয়াছে।” কল্যাণীরও কাজেই সেই বিশ্বাস হইল। অনেকক্ষণ ধরিয়া তিনিও বড়ি হাতে লইয়া নিরীক্ষণ করিলেন। এদিকে, মেয়ে যে স্থই এক ঢোক গিলিয়াছিল, তাহারই গুণে কিছু বিকৃতাবস্থা প্রাপ্ত হইল। কিছু ছটফট করিতে লাগিল—কাদিতে লাগিল—শেষ কিছু অবসন্ন হুইয়। পড়িল । তখন কল্যাণী স্বামীকে বলিলেন, “আর দেখ কি ? যে পথে দেবতায় ডাকিয়াছে, সেই পথে মুকুমারী চলিল-আমাকেও যাইতে হুইবে।”