পাতা:আনন্দমঠ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দ্বিতীয় খণ্ড—অষ্টম পরিচ্ছেদ <ფატ সত্য। তা হউক, সামান্ত মনুষ্যদিগের মন স্ত্রীলোকে আসক্ত এবং কার্ষ্যে বিরত করে। এই জন্ত সস্তানের ব্ৰতই এই যে, রমণী জাতির সঙ্গে একাসনে উপবেশন করিবে না। জীবানন্দ আমার দক্ষিণ হস্ত। তুমি আমার ডান হাত ভাঙ্গিয় দিতে আসিয়াছ। শাস্তি। আমি আপনার দক্ষিণ হস্তে বল বাড়াইতে আসিয়াছি। আমি ব্রহ্মচারিণী, প্রভুর কাছে ব্রহ্মচারিণীই থাকিব। আমি কেবল ধৰ্ম্মাচরণের জন্য আসিয়াছি ; স্বামিসন্দর্শনের জন্য নয়। বিরহ-যন্ত্রঞ্চয় আমি কাতর। নই। স্বামী যে ধৰ্ম্ম গ্রহণ করিয়াছেন, আমি তাহার ভাগিনী কেন হইব না ? তাই আসিয়াছি। সত্য। ভাল, তোমায় দিন কত পরীক্ষা করিয়া দেখি । শাস্তি বলিলেন, “আনন্দমঠে আমি থাকিতে পাইব কি ?” সত্য। আজ আর কোথা যাইবে ? শান্তি । তার পর ? সত্য। “মা ভবানীর মত তোমারও ললাটে আগুন আছে, সন্তানসম্প্রদায় কেন দাহ করিবে ?” এই বলিয়, পরে আশীৰ্ব্বাদ করিয়া সত্যানন্দ শাস্তিকে বিদায় করিলেন । শান্তি মনে মনে বলিল, “র বেটা বুড়ো ! আমার কপালে আগুন ! আমি পোড়াকপালি, না তোর মা পোড়াকপালি ?” বস্তুত সত্যানন্দের সে অভিপ্রায় নহে—চক্ষের বিছাতের কথাই তিনি বলিয়া- ' ছিলেন, কিন্তু তা কি বুড়ে বয়সে ছেলে মানুষকে বলা যায় ? অষ্টম পরিচ্ছেদ সে রাত্রি শান্তি মঠে থাকিবার অনুমতি পাইয়াছিলেন। অতএব ঘর খুজিতে লাগিলেন। অনেক ঘর খালি পড়িয়া আছে। গোবৰ্দ্ধন নামে এক জন পরিচারক— সেও ক্ষুদ্রদরের সন্তান—প্রদীপ হাতে করিয়া ঘর দেখাইয়া বেড়াইতে লাগিল। কোনটাই শান্তির পছন্দ হইল না। হতাশ হইয়া গোবৰ্দ্ধন ফিরিয়া সত্যানন্দের কাছে শাস্তিকে লইয়া চলিল । শান্তি বলিল, “ভাই সস্তান, এই দিকে যে কয়টা ঘর রছিল, এ ত দেখা হইল না ?” গোবৰ্দ্ধন বলিল, “ও সব খুব ভাল ঘর বটে, কিন্তু ও সকলে লোক আছে।” শাস্তি। কারা আছে ? - Yo