পাতা:আনন্দমঠ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ম : * ويل کيمياوي . | se ് अॉममांभ* ; থোৰ। বড় বড় সেনাপতি আছে। : শাস্তি। বড় বড় সেনাপতি কে ? গোব । ভবানন্দ, জীবানন্দ, ধীরানন্দ, জ্ঞানানন্দ । আনন্দমঠ আনন্দময়। শাস্তি । ঘরগুলো দেখি চল না। গোবৰ্দ্ধন শাস্তিকে প্রথমে ধীরানন্দের ঘরে লইয়া গেল। ধারানন্দ মহাভারতের জোণপৰ্ব্ব পড়িতেছিলেন। অভিমন্ত্র্য কি প্রকারে সপ্ত রথীর সঙ্গে যুদ্ধ করিয়াছিল, তাহাতেই মন নিবিষ্ট—তিনি কথা কহিলেন না। শান্তি সেখান হইতে বিনা বাক্যব্যয়ে চলিয়া গেল । শাস্তি পরে ভবানন্দের ঘরে প্রবেশ করিল। ভবানন্দ তখন উৰ্দ্ধদৃষ্টি হইয়া, একখানা মুখ ভাবিতেছিলেন। কাহার মুখ, তাহ জানি না, কিন্তু মুখখানা বড় সুন্দর, কৃষ্ণ কুঞ্চিত সুগন্ধি অলকারাশি আকর্ণপ্রসারিক্রযুগের উপর পড়িয়া আছে। মধ্যে অনিন্দ্য ত্রিকোণ ললাটদেশ মৃত্যুর করাল কাল ছায়ায় গাহমান হইয়াছে। যেন সেখানে মৃত্যু ও মৃত্যুঞ্জয় দ্বন্দ্ব করিতেছে। নয়ন মুজিত, ক্রযুগ স্থির, ওষ্ঠ নীল, গণ্ড পাণ্ডুর, নাসা শীতল, বক্ষ উন্নত, বায়ু বসন বিক্ষিপ্ত করিতেছে। তার পর যেমন কবিয়া শরন্মেঘ-বিলুপ্ত চন্দ্রম ক্রমে ক্রমে মেঘদল উদ্ভাসিত করিয়া, আপনার সৌন্দৰ্য্য বিকশিত করে, যেমন করিয়া প্রভাতসূৰ্য্য তরঙ্গাকৃত মেঘমালাকে ক্রমে ক্রমে সুবর্ণীকৃত করিয়! আপনি প্রদীপ্ত হয়, দিষ্মণ্ডল আলোকিত করে, স্থল জল কীটপতঙ্গ প্রফুল্ল করে, তেমনি সেই শবদেহে জীবনের শোভার সঞ্চার হইতেছিল। আহা কি শোভা , ভবানন্দ তাই ভাবিতেছিল, সেও কথা কহিল না। কল্যাণীর রূপে তাহার হৃদয় কাতর হইয়াছিল, শাস্তির রূপের উপর সে দৃষ্টিপাত করিল না । শান্তি তখন গৃহাস্তরে গেল। জিজ্ঞাসা করিল, “এটা কার ঘর ?” গোবৰ্দ্ধন বলিল, “জীবানন্দ ঠাকুরের ” শান্তি । সে আবার কে ? কৈ, কেউ ত এখানে নেই। গোব। কোথায় গিয়াছেন, এখনি আসিবেন। শাস্তি। এই ঘরটি সকলের ভাল। গোব। তা এ ঘরটা ত হবে না। শাস্তি। কেন ? গোব। জীবানন্দ ঠাকুর এখানে থাকেন।