পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/৩১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অামার বোম্বাই প্রবাস રે 8૭ জাতি আছে যাদের মধ্যে বিধবা-বিবাহ প্রচলিত। ব্রাহ্মণ ও ব্রাহ্মণ্যের অনুকরণশীল 'জাতিবর্গেই এই বিবাহ নিষিদ্ধ। এই নিষেধের আনুষঙ্গিক এক ভয়ানক কুপ্রথা আবহমান কাল চলে আসছে—সে কি না বিধবার মস্তক-মুণ্ডন। বঙ্গ বিধবাদের অনেকগুলি কঠোর নিয়ম পালন করতে হয়,—এক সন্ধ্য আহীর, নির্জলা উপবাস, অলঙ্কার বর্জন কিন্তু ভাগ্যক্রমে তার উপর শিরোমুগুন প্রথা নেই। বোম্বায়ে বিধবা রমণীদের এসব ত অাছেই, তার উপর বেশীর ভাগ ঐ এক উৎপীড়ন । ভবিষ্যতে বিধবা স্ত্রীদের অদৃষ্টে যে সকল জাল যন্ত্রণ আছে, পতিবিয়োগের পরক্ষণেই নাপিতের হাতে কেশচ্ছেদন তার পূর্বাভাস। যাতে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই কাৰ্য্য করা না হয়, তাদের সম্মতিপ্রকাশের কোন উপায় নির্দিষ্ট হয়, সমাজ-সংস্কারকদের তাহ বিবেচ্য ! আমি জানি স্বৰ্গীয় মহাদেব গোবিন্দ রাণাডে এই নৃশংস প্রথার বিরুদ্ধে রাজবিধি প্রয়োগ করবার উদ্যোগে ছিলেন, কতদূর কৃতকাৰ্য্য হয়েছিলেন বলতে পারি না । দেবদাসী এই প্রসঙ্গে অপ্রৌঢ় বালিকাদের প্রতি আর এক প্রকার অত্যাচারের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। বোম্বাই প্রদেশে ‘নায়িকা’ নামে একদল বীরাঙ্গনা আছে (অন্ত নাম দেবদাসী ), তারা দেবমন্দিরে নর্তকী-রূপে নিযুক্ত। তাদের বিবাহ হয় ন, বেগুণবৃত্তিই তাদের জীবনের প্রধান অবলম্বন। এই কার্য্যে দীক্ষিত হবার একটা বিশেষ অনুষ্ঠান আছে—তাকে বলে ‘সেজ। সে অনুষ্ঠান বিবুহের ভড়ং মাত্র। বরের ঠিকানায় একটা খড়গ রাখা হয়, তার উপর ফুলের মালা সাজিয়ে পুরোহিত মন্ত্র পাঠ করে এবং বালিকা তাকে পতিত্বে বরণ করে। সেই অবধি দেবতার কাৰ্য্যে ও আনুষঙ্গিক অকার্য্যে তার জীবন উৎসর্গীকৃত হয়। বোম্বাই মফস্বল কোর্টে এইরূপ অত্যাচার-সম্পৰ্কীয় মকদ্দম কখন কখন উপস্থিত হয়, আমি কারওয়াবে থাকতে এইরূপ মকদ্দমা আমার কাছে মাঝে মাঝে আসত। অসামীর বক্তব্য এই—“এ আমাদের চিরন্তর প্রথা, মেয়েকে আমাদের কুলধৰ্ম্মে দীক্ষিত করাতে দোষ কি ?” কিন্তু দেশাচার যাই হোক, যারা কিশোর বয়স্ক বালিকাদের মতিভ্রষ্ট ও আজীবন বেখাবৃত্তি অবলম্বনে বাধ্য করে তাদের বিধিমতে দণ্ডনীয় হওয়া উচিত, তার আর কোন সন্দেহ নেই। এই অত্যাচার নিবারণ উদ্দেশে বড়লাটের ব্যবস্থাপক সভায় যে নুতন আইন প্রবর্তনের প্রস্তাব উঠেছে তা আমার মতে নিতান্ত প্রয়োজনীয় । তাই হোক কিম্বা প্রচলিত আইনের পরিবর্তনই হোক, যে কোন উপায়ে মুকুমারমতি বালিকাদের প্রতি