পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/৩২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার বোম্বাই প্রবাস তিনি বলিতেন ধৰ্ম্ম ভক্তির উপর সমাজ-সংস্কার স্থাপন কর, নতুবা স্থায়ী ফলের প্রত্যাশা নাই। এই বিষয়ে রাজা বনমোহন রায়ের সহিত তাহার মতেৰ ঐক্য। তিনি এত সাবধানে কাৰ্য্য করিয়াও গোড় হিন্দুদের কটাক্ষ এড়াইতে পারেন নাই। জাতিতে কছাড় BBB BB BBBB BBBB BBBBBB BBBS BB BBBS BBB BBB gB B জাতির অনুরোধে কৰ্ত্তব্য পালনে তিনি পরায়ুথ ছিলেন না। তাহাব দৃষ্টান্ত, বেভরেও নারায়ণ শেষাদ্রির ভ্রাত শ্ৰীপাদ শেষাদ্রি অকারণে জাতিচু্যত হন। জাতে উঠিবার আবেদন করিলে একদল গোড়া হিন্দু তাহার বিপক্ষে দাড়াইলেন, এই বিবাদে হিন্দুসমাজে মহা হুলুস্থল বাধিয়া গেল। শাস্ত্রী মহাশয় প্রাণপণে পতিতোদ্ধারের সাহায্যে তৎপর হইলেন এবং নিজে অশেষ উৎপীড়ন সহা করিয়া শ্রীপাদের বহিষ্কাব-কলঙ্ক মোচনে কৃতকাৰ্য্য হয়েন। ও-দেশে কুসংস্কার ও ধৰ্ম্মান্ধতার উপব জয়লাভেব এই প্রথম দৃষ্টান্ত । দুর্ভাগ্যবশতঃ বালশাস্ত্রী অকলে কালগ্রাসে পতিত হইলেন--তিনি ১৭ই মে ১৮০ ০ অব্দে পয়ত্রিশ বৎসর বয়ঃক্রমে মানবলীলা সম্বরণ কবেন । র্তাহার ধৰ্ম্ম-সংস্কারের যে ইচ্ছ—সে মনের ইচ্ছ। মনেই রহিয়া গেল। তাহার অকাল মৃত্যুতে সমাজ-সংস্কারের পিস্তব হানি জন্মে— সে ক্ষতি পূরণ করে আজ পর্যন্ত এমন অল্প লোকই দেখা গিয়াছে। দাদোবা পাণ্ডুরঙ বালশাস্ত্রীর মৃত্যুৰ পৰ শিক্ষিত মণ্ডলীর মধ্যে আর এক নূতন দল উঠিল। প্রসিদ্ধ ডাক্তার আত্মারাম পাণ্ডুরঙের ভ্রাতা দাদোবা পাণ্ডুবঙ এই দলের দলপতি। বঙ্গলার যেমন কৃষ্ণবন্দ্য বোম্বায়ে তেমনি দাদোবা পাণ্ডুরঙ। এই দুই ব্যক্তি একই ধরণের লোক। উভয়েই সংস্কৃত শাস্ত্রে ব্যুৎপন্ন, উভয়েই খৃষ্ট ধৰ্ম্মতত্ত্ব বিশারদ। উভয়েরই ধৰ্ম্মভাব প্রবল—প্রভেদ এই, কৃষ্ণবন্দ্য খৃষ্টধৰ্ম্মে দীক্ষিত হইয়া হিন্দু সমাজের সহিত সমুদায় বন্ধন ছেদন করিলেন। দাদোবার খৃষ্টধৰ্ম্ম গ্রহণ করিতে প্রবৃত্তি হয় নাই। ধৰ্ম্ম বিষয়ে তিনি অব্যবস্থিত চিত্ত ছিলেন—কোন ধৰ্ম্ম সত্য, কোথায় গিয়া দাড়াইবেন তাহ ঠিক করিতে পারেন নাই। সে যাহা হউক দাদেবীর উৎসাহ – তাহার বশীকরণ শক্তি, সামাজিক অনীতি অত্যাচারের উপর জলন্ত বিদ্বেষ, এই সকল বিষয়ে তিনি কৃষ্ণবন্দ্যের সমতুল্য ছিলেন ও ইনি যেমন কলিকাতায়, তিনি তেমনি বোম্বায়ে কতিপয় শিক্ষিত যুবকের নেতা হইয়া দাড়াইলেন। এই সময় দাদেব পাণ্ডুরঙ বোম্বাই নৰ্ম্মাল স্কুলের অধ্যক্ষপদে নিযুক্ত হন। এই র্তাহার অবসর –সেই স্কুলের বার জন প্রধান ছাত্রকে তাহার কাজের উপযোগী হাতিয়ার পাইলেন এবং নিজ মন্ত্রে দীক্ষিত করিয়া শীঘ্রই তাহাদিগকে শিষ্য করিয়া লইলেন । তাহার দৃষ্টান্ত অপরাপর বিদ্যালয়ে অনুপ্রবিষ্ট হইল। জাতিভেদ প্রথা ও তৎসম্বন্ধীয়