পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্মরণ করিয়ে দেওয়া। নইলে কার কি আসে যায় সে যদি রাতটুকু এখানে কাটাতে না আসে ? যে টাকা সংসারে দেবার কথা সেটা যদি ডাকে পাঠিয়ে দেয় ? তার টাকা নিতে কারে আপত্তি হবেন । টাকায় কলঙ্ক লাগে না । না, এই সংসারটি মোটেই তার সমস্যা নয়, এরা নামেই তার আপন জন । এদের সঙ্গে তার মিলও নেই মনের দিক থেকে, মেহমমতার বঁাধনও নেই । সে প্ৰায় অন্য জগতের মানুষ হয়ে গেছে । এদের ছেড়ে যেতে তার কষ্ট হবে না । নিয়মিত টাকাটা পেলে 65N8 G5 (ieš TSG CRPGICK IN VS53 TS2 কিন্ত তার উৎসাহ জাগছে। কই ? সাধ হলেও প্রিয়ার সঙ্গে একান্তে দু’দণ্ড কথা বলবার সুযোগ তার এখন নেই, পৃথিবী ঘুমোলে কখন তার সংকেত আসবে সেজন্য প্ৰতীক্ষা করে থাকতে হয়, তবু সর্বদা তাকে কাছে পাবার রোমাঞ্চকর কল্পনা হৃদয় মনে সাড়া তো জাগায় না তার ? বরং নানারকম দ্বিধাসংশয় জাগে, ভয় করে। ঘর বঁাধার পর সর্বদা কাছে পেয়ে মায়াকে যদি তার ভাল না লাগে ? যদি বিস্বাদ হয়ে যায়। তার সেবা যত্ন আর দরদ করার আকুলতা ব্যাকুলতা ? অন্ধকার থাকতে উঠে গোয়াল থেকে গোবিন্দের গরু দুইয়ে ঘাটে এসে সে যখন তাকে টাটকা দুধ খাওয়ায়, তখন সত্যই মনে হয় তার চেয়ে ভাগ্যবান পুরুষ এ জগতে নেই। মনে হয়। কঁচা দুধ নয় যেন সত্যই অমৃত পান করছে। কিন্তু নিজের ঘরে যত্ন করে রোধেবেড়ে আরও বেশী দরদ দিয়ে খাওয়ানোটা যদি একঘেয়ে লাগে ? যদি মনে হয়। ঘরে ঘরে মায়ের বৌয়ের যন্ত্রের মত এটা করছে, কি বৈচিত্ৰ্য বা রোমাঞ্চ আছে তার লেবায় ? No