পাতা:ইন্দিরা-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఫెt हेनिद्रा aft হারাণীর নীতি শিক্ষা এইরূপ। হারাশী স্বীকৃত হইয়া গেল, কিন্তু ফিরিয়া আসিতে বিলম্ব হইতে লাগিল। ততক্ষণ আমি কাটা মাছের মত ছট্‌ফট্‌ করিতে লাগিলাম। চাবি ও পরে হারাণী ফিরিয়া আসিয়া হাসিতে হাসিতে কছিল, “বাৰুর অম্বখ করিয়াছে—বাবু এ বেলা যাইতে পারিলেন না—আমি তাহার বিছানা লইতে আসিয়াছি।” আমি বলিলাম, “কি জানি, যদি অপরায়ে চলিয়া যান—তুই একটু নির্জন পাইলেই তাহাকে বলিস্ •যে আমাদের রাধুনী ঠাকুরাণী বলিয়া পাঠাইলেন যে, এ ফেলা আপনার খাওয়া ভাল হয় নাই, রাত্রি থাকিয়া খাইয়া যাইবেন। কিন্তু রাধুনীর নিমন্ত্রণ, কাহারও সাক্ষাতে প্রকাশ করিবেন না। কোন ছল করিয়া থাকিবেন।” হারাণী আবার হাসিয়া বলিল, “ছি!” কিন্তু দৌত্য স্বীকৃত হইয়া গেল। হারাণী অপরায়ে আসিয়া আমাকে বলিল, “তুমি যাহা বলিয়াছিলে, তাহ বলিয়াছি। বাধুটি ভাল মানুষ নহেন— রাজি হইয়াছেন ।” শুনিয়া আল্লাদিত হইলাম, কিন্তু মনে তাহাকে একটু নিদ্ৰা করিলাম। আমি চিনিয়াছিলাম যে তিনি আমার স্বামী, এই জন্য যাহা করিতেছিলাম, তাহাতে আমার বিবেচনায় দোষ ছিল না । কিন্তু তিনি যে আমাকে চিনিতে পারিয়াছিলেন, এমত কোন মতেই সম্ভবে না। আমি তাহাকে বয়ঃপ্রাপ্ত অবস্থায় দেখিয়াছিলাম—এজন্ত আমার প্রথমেই সন্দেহ হইয়াছিল। তিনি আমাকে একাদশ বংসরের বালিকা দেখিয়াছিলেন মাত্র। তিনি আমাকে চিনিতে পারিয়াছেন, এমত কোন লক্ষণও দেখি নাই। অতএব তিনি আমাকে পরী জানিয়া যে আমার প্রণয়াশায় লুব্ধ হইলেন, শুনিয়া মনেই নিন্দ করিলাম। কিন্তু তিনি স্বামী, আমি স্ত্রী—র্তাহার মন্দ ভাব| আমার অকৰ্ত্তব্য বলিয়া সে কথার আর আলোচনা করিলাম না । মনে২ সঙ্কল্প করিলাম, যদি কখন দিন পাই, তবে এ স্বভাব ত্যাগ করাইব । অবস্থিতি করিবার জন্য র্তাহাকে ছল খুজিয়া বেড়াইতে হইল না। তিনি কলিকাতায় কারবার আরম্ভ করিয়াছিলেন, সেই জন্য মধ্যে২ কলিকাতায় আসিতেন। রামরাম দত্তের সঙ্গে তাহার দেন। পাওনা ছিল। সেই স্বত্রেই তাহার সঙ্গে নূতন আত্মীয়তা। . অপরাহ্লে তিনি হারাণীর কথায় স্বীকৃত হইয়া, রামরামের সঙ্গে পুনশ্চ সাক্ষাৎ হইলে বলিলেন, “যদি আসিয়াছি, তবে একবার হিসাবটা দেখিয়া গেলে ভাল হইত। রামরাম বাবু বলিলেন, “ক্ষতি কি ? কিন্তু কাগজ পত্র সব আড়তে আছে, আনিতে পাঠাই। আসিতে রাত্র হইবে। যদি অনুগ্রহ করিয়া কাল গ্রাতে একবার পদার্পণ করেন—কিম্ব অন্য অবস্থিতি করেন, তবেই হইতে পারে।” তিনি উত্তর করিলেন, “তাহার বিচিত্র কি ? এ আমারই ঘর। একবারে কাল প্রাতেই যাইব ।” - 争 পঞ্চম পরিচ্ছেদ। গভীর রাত্রে সকলে আহারাস্তে শয়ন করিলে পর, আমি নিঃশব্দে রামরাম দত্তের বৈঠকখানার গেলাম। ভখায় আমার স্বামী একাকী শয়ন করিয়াছিলেন।

  • *