পাতা:ইন্দুমতী - যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২
ইন্দুমতী।

দেখিতে ছিলেন সেই প্ৰকৃতির খেলা-
সন্ধ্যার দুৰ্যোগ সেই ঝড়ের হুঙ্কার,
তরঙ্গের আস্ফালন, প্ৰচণ্ড তাণ্ডব।
দেখিলেন ক্রমে হ’ল আকাশ নিৰ্ম্মল,
উঠিল চন্দ্ৰমা বিশ্ব হাসিল আবার,
দুৰ্যোগের কোন চিহ্ন রহিল না আর।
বলিলেন মনে মনে, “মানব জীবন
প্রকৃতির অনুরূপ, এই ছায়া আলো,
এই কান্না এই হাসি৷ সন্ধ্যার সময়,
ডুবিল ধরণী যেই ঘোর অন্ধকারে,
তাহার হবে না শেষ ছিল অনুমান।
কিন্তু কি আশ্চৰ্য্য হায়! দেখিতে দেখিতে,
প্ৰকৃতির রঙ্গ-মঞ্চে অন্য পট আসি,
আরম্ভ হইল পুনঃ নব অভিনয়।
এই জীবনের এত দুঃখ অবসাদ,
অন্ধকার হাহাকার বিরহ-যাতনা,
ওই মেঘ বৃষ্টি মত হবে না কি লয়,
জীবনের পর পারে? অনন্ত জোছনা,
করিবে না আলো কি গো সে দেশের পথ?
আঁধার জীবন-পথে যেই প্ৰিয়জন,
গেছেন ফেলিয়া মোরে, তিনি আগু হয়ে,
লবেন আমারে কি গো সে দেশের পথে?