পাতা:ইসলামী ধর্মতত্ত্বঃ এবার ঘরে ফেরার পালা.pdf/১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্ব

১৭

সিজদা করল। ইবলিস অমান্য করল, অহঙ্কার করল এবং বলল, “আপনি শুকনো ঠনঠনে মাটির দুর্গন্ধময় কাদা দিয়ে যে মানুষ সৃষ্টি করেছেন তার কাছে আমি নত হতে রাজী নই। আমি আদম আপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, কারণ আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন আগুনের দ্বারা(৭/১২)।” প্রকৃতপক্ষে আম্লা সমস্ত ফেরেস্তাদেরই সৃষ্টি করেছেন আগুনের দ্বারা এবং তাই তারা মানুষের কাছে অদৃশ্য থাকেন।

 যাই হোক, আল্লাতায়লা ইবলিসের উপর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন, “আজ থেকে তুই অবিশ্বাসীদের দলভুক্ত হলি। এখান থেকে তুই চলে যা। কেয়াম পর্যন্ত তার প্রতি আমার ধিক্কার ও অভিশাপ রইল”(৭/১৪)। সেইদিন থেকে ইবলিস শয়তানে পরিণত হল এবং স্বর্গ থেকে নির্বাসিত হল।

 আল্লা সমস্ত জীবজন্তু স্ত্রী ও পুরুষ, জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন যাতে তারা শান্তি পায়। তাই আল্লা আদমের কুক্ষাস্থি (পাঁজরের সব থেকে নীচের হাড়) থেকে মা হাওয়াকে সৃষ্টি করলেন। একদিন আম যখন গভীর ঘুমে নিমগ্ন ছিলেন তখন আল্লা তার এই হাড় সংগ্রহ করেন। মা হাওয়াকে আল্লা মাটির বদলে আদমের হাড় দিয়ে এই কারণে সৃষ্টি করলেন যাতে পুরুষজাতি নারীজাতিকে নিজের শরীরের অংশ জেনে তাদের প্রতি সদয় ও সহানুভূতিসম্পন্ন হয়।

 আল্লাতায়লা আদম ও মা হাওয়াকে চিরকাল স্বর্গে বসবাস করার অনুমতি দিলেন, যথা-তথা ভ্রমণ করতে বললেন এবং যা ইচ্ছা খেতে বললেন, শুধু গন্দম বৃক্ষের ধারে কাছে যেতে বা তার ফল খেতে নিষেধ করলেন। কিন্তু ঈর্ষাকাতর শয়তান ইবলিশ তাদের কু-পরামর্শ দিল। বলল যে, গন্দম বৃক্ষের ফল খেয়ে তারা যাতে অমর ফেরেস্তা না হয়ে যান তাই আল্লা তাদের ঐ ফল খেতে নিষেধ করেছেন। যাই হোক, শয়তানের কুহকে পড়ে তারা একদিন সেই ফল খেলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তাদের ভিতর থেকে স্বর্গীয় প্রভাব দুর হয়ে গেল। স্বর্গে মলমূত্র ত্যাগের প্রয়োজন হয় না। তাই যে স্বর্গীয় পোশাক আল্লা তাদের পরিয়ে দিয়েছিলেন তা এতদিন পরিবর্তন বা উন্মোচন করার প্রয়োজন হয় নি। কিন্তু স্বর্গীয় প্রভাব দূর হবার সাথে সাথে সেই স্বর্গীয় পোশাক অন্তুহিত হল, পরস্পরের লজ্জাস্থান প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং হজরৎ আদমও মা হাওয়া পাপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়লেন।

 আল্লা যখন এ সব ব্যাপার জানতে পারলেন তখন তিনি আদম ও হাওয়ার উপর খুবই ক্রুদ্ধ হলেন এবং স্বর্গ থেকে তাদের নির্বাসিত করলেন। স্বর্গ থেকে চ্যুত হয়ে আদম আরবের মক্কায় (মতান্তরে বর্তমান শ্রীলঙ্কায়) এবং মা হাওয়া আরবের ইয়মন প্রদেশে পতিত হলেন। অনেক দিন তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে কাটালেন এবং তারপর আল্লার ইচ্ছায় মক্কার নিকৃষ্টবর্তী আরাফৎ (মিলন) প্রান্তরে পুনরায় মিলিত হলেন। তারপর তারা সংসার পাতলেন, সন্তান-সন্তুতি হল এবং এইভাবে পৃথিবীতে মানবজাতির বিস্তার শুরু হল।