পাতা:কবিকঙ্কণ-চণ্ডী (প্রথম ভাগ) - চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৩৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কবিকঙ্কণ-চণ্ডী মাত্র। গায়িত্রীতেও (১১৬৪৷৷৪৬ ) তাহাব স্থান খুব উচ্চ, যদিও গায়ত্রীর বৈদান্তিক অর্থ তখনও কল্পিত হয় নাই। হংসাবতী ঋক (৪।৪০৫) সূৰ্য্যবিষয়িণী কি না সন্দেহ, কিন্তু যদি তাহাই হয় তবে বোঝা যায় যে কোন কোন মন্ত্রবচয়িতা বিষ্ণুকে পূজ্যতম দেবতা বলিষা গ্ৰহণ কবিয়াছিলেন। কিন্তু মহাভাবিত ও বৈষ্ণব পুবাণসমূহে তাহাব যে স্থান, তাহা প্ৰাপ্ত হইতে কেবল অনেক সময় নহে, অনেক সংগ্রামও লাগিয়াছিল। সেই সংগ্রামেব কথা বেদ পুবাণ উভযেই আছে। ফলতঃ অবতাববাদ কল্পিত হইবাব পুৰ্ব্বে এবং বিষ্ণুব প্ৰধান অবতার কৃষ্ণ আবিস্কৃত না হওয পৰ্য্যন্ত তিনি সে স্থান প্ৰাপ্ত হন নাই । অবতাববাদ বৈদিক সময়েব অনেক পবে কল্পিত হয়। কিন্তু বিষ্ণু যেমন বৈদিক, যিনি পুবাণে বিষ্ণুব প্ৰধান অবতাবিরূপে অভিষিক্ত হইলেন। সেই কৃষ্ণও তেমনই বৈদিক । মহাভারত ও পুবাণেব কৃষ্ণ ধম্মাচাৰ্য্য ও যোদ্ধা দুইই । বেদে দুই কৃষ্ণ, একজন মন্ত্রবচযিত ঋষি, আব-একজন যোদ্ধা । মহাভাবিত ও পুবাণে এই দুই বৈদিক কৃষ্ণ মিলিত হইয়াছেন। ‘মহাভাবতেব কৃষ্ণ ক্ষত্ৰিয, কিন্তু অনাৰ্য্য গোপকুলে প্ৰতিপালিত । বেদে বা ঋষি কৃষ্ণ অাঙ্গিবাস অর্থাৎ সুপ্ৰসিদ্ধ আঙ্গি বা ঋষিবা বংশোদ্ভব, কিন্তু যোদ্ধা কৃষ্ণ অনাৰ্য্য। পৌবাণিক কৃষ্ণেব সহিত ইন্দ্ৰেবি সদ্ভালি নাই, নানা স্থানে উভয়ে যুদ্ধ ও কালত । বৈদিক অনাৰ্য্য ক্লষ্ণ ও ইন্দ্ৰেবি ঘোবি শত্ৰু । কিন্তু বেদে ইন্দ্ৰেবি নিকট কৃষ্ণ পবাস্ত ; পুবাণে সেই পাবা জয়েব যথেষ্ট প্ৰতিশোধ,-- প্ৰতিপদেই ইন্দ্ৰ কৃষ্ণেব নিকট পাব জিত ও অপমানিত । কৃষ্ণ এবং তৎপুত্ৰ বিশ্বকায় বৈদিক দেবতা অশ্বিনদ্বয়েব উপাসক ছিলেন। বিশ্বকায়েব পুত্ৰ বিশ্বাপূব মৃত্যু হইলে অশ্বিনদ্বয় তাহাকে পুনর্জীবিত কবেন। কৃষ্ণ পুবাণে ঐশী শক্তি সহ পুনবাবিভূতি হইয়া নিজ গুৰু সান্দাপাণি সম্বন্ধে এই দৈব কায্যের অনুকাবণ কবিয়াছিলেন । ছান্দোগ্যে তিনি “দেবকী-পুত্র” এবং আঙ্গি বসবংশীয় ঘোবি নামক ঋষিব শিষ্য । ঋগ্বেদে একটি যুদ্ধ বর্ণিত আছে। তাব এক পক্ষে ইন্দ্ৰ, অপব পক্ষে অনাৰ্য্য যোদ্ধা কৃষ্ণ। স্থান অংশুমতী নদীব তীব্য। “অংশুমতা” বোধ হয় কাবুল-নদীব প্ৰাচীন নাম। কৃষ্ণ দশ সহস্র সৈন্য লইয়া যুদ্ধ কবিতে আসেন । এই সেনা যে অনাৰ্য্য ছিল তার প্রমাণ এই যে ইহাকে। ঋগ্বেদে “আদেবীঃ” অর্থাৎ দেবপুজা বর্জিত বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে। ইন্দ্ৰ বৃহস্পতিব সাহায্যে এই সেনাকে বিনষ্ট কবেন। এই বেদোক্ত ইন্দ্ৰ-কৃষ্ণেব যুদ্ধই পুবাণোক্ত ইন্দ্র ও কৃষ্ণেব সমুদায় বিবাদের মূল। পৌবাণিকেবা বৈদিক দেবপূজাব স্থলে কৃষ্ণপুজা প্ৰতিষ্ঠিত কবিতে প্ৰয়াস পান। কাজেই কৃষ্ণকে অন্ততঃ কতক পরিমাণে বৈদিক প্ৰধান দেবতা ইন্দ্রের বিরোধী না করিলে হয় না । দুটিমাত্র বিবোধেব সংক্ষিপ্ত উল্লেখ কবি । প্রথমটি বৃন্দাবনে