পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/১০৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১•১৪ কলিকাতা সেকালের ও একালের । কিন্তু ভবিষ্যতকালে কোন সরিকানী মোকদমায় তিনি রাজা গোপীমোহন দেবের (স্যর রাজা রাধাকাস্তের পিতা) সহায়তা করা, রাজা রাজকৃষ্ণের সহিত র্তাহার এই বন্ধুত্ব-বন্ধন বিচ্ছিন্ন হয়। * গোপীমোহন ঠাকুর, সংস্কৃত, ফ্রেঞ্চ, পটুগীজ, ইংরাজী, পারসী, উর্দু প্রভৃতি নানা ভাষা জুনিতেন। মুলাজোড়ের কালীবাড়ী তাহার প্রধান কীৰ্ত্তি । সূৰ্য্যকুমার, চন্দ্রকুমার, নন্দকুমার, কালীকুমার, হরকুমার ও প্রসন্নকুমার নামধেয় গোপীমোহনের ছয় পুত্র জন্মে। তন্মধ্যে প্রথম চারি জনের কোন সন্তান সন্ততি হয় নাই । হরকুমার ও প্রসন্নকুমার স্বনামধন্ত মহাপুরুষ। হরকুমারের দুই পুত্র। জ্যেষ্ঠ মহারাজা বাহাদুর স্যর যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর ও কনিষ্ঠ রাজা সৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুর । ইহারা অতীতযুগের বঙ্গ-সমাজের উজ্জল রত্ব ছিলেন । হরকুমার সংস্কৃত ভাষায় অতীব দক্ষতা লাভ করিয়াছিলেন । সংস্কৃতচর্চা, পূজাপাঠ ও দেবারাধনাতেই তাহার জীবনের অধিকাংশ সময় অতীত হইত। দক্ষিণার্চ-পারিজাত, হরতত্ত্ব-দীধিতি, পুরশ্চরণ-পদ্ধতি, শিলাচক্রার্থবোধিনী প্রভৃতি সংস্কৃত-গ্রন্থ তাহারই বিরচিত। এরূপ মহা সাত্বিক, স্বধৰ্ম্মে নিষ্ঠাবান, মহাপণ্ডিত ধনীসন্তান, বঙ্গদেশে খুব কমই জন্মিয়াছিলেন । ১৮৫৮ খ্ৰীঃ অব্দে তাহার স্বৰ্গ লাভ হয় । মহাত্মা প্রসন্নকুমার ঠাকুর সেকালের বাঙ্গালী-সমাজের একজন নেতা ছিলেন । র্তাহার স্তায় আইনজ-পণ্ডিত, সেকালে খুব কমই ছিল। প্রসল্পকুমার সম্বন্ধে, আমরা ইতিপূৰ্ব্বে অনেক কথাই বলিয়াছি। ঠাকুর-জাইন সম্বন্ধে বৃত্তি এই প্রসন্নকুমারের গৌরবময় দানকীর্তি. 龜 হরকুমারের প্রথম পুৰ মহারাজ যতীন্দ্রমোহন ১৮৩১ খৃঃ অব্দে জন্মগ্ৰহণ করেন। মহারাজ যতীন্দ্রমোহন, হিন্দু-কলেজে শিক্ষা সমাপন করিয়া বাড়ীতে সাহেব শিক্ষকদের নিকট ইংরাজী ও পণ্ডিতগণের নিকট সংস্কৃত শিক্ষা করেন। ২৭ বৎসর বয়সে ইহার পিতৃবিয়োগ হইলে, খুল্লতাত প্রসন্নকুমারের শিক্ষাধীনে ইনি জমিদারী সম্বন্ধীয় বিষয়কাৰ্য্যাদি শিক্ষা করিয়াছিলেন । ১৮৭০ খ্ৰীঃ অবো ইনি ব্রিটিশ-ইণ্ডিয়াম সভার সদস্যপদে নিৰ্ব্বাচিত হন । ১৮৭১ খ্ৰীষ্টাব্দে বড়লাট লর্ড মেয়োর আমলে—ধতীন্দ্রমোহন ঠাকুর “রাজা-বাহাদুর" উপাধি লাভ করেন। ১৮৭৭ খ্ৰীঃ অৰে মহারাণী ভিক্টোরিয়া যে সময়ে ভারত-সম্রাজী উপাধি গ্রহণ করেন, সেই সময়ে লর্ড লিটন স্বাঙ্গ স্বতীজমোহনকে “মহারাজা” উপাধি প্রদান করেন।