পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/১৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চতুর্থ অধ্যায়। పిచ్చి দ্বিতল গৃহ। গৃহের পূর্ব ও দক্ষিণ সীমা কালীপ্রসাদ দত্তের ষ্ট্রীট। পশ্চিম সীমা বালাখানা ষ্ট্রীট। উত্তর সীমার অধিকাংশ, রাজা নবকৃষ্ণ বাহাদুরের জনী। এই চুড়ামণি দত্তের সহিত, সামাজিক ব্যাপার লইয়া, রাজার বিবাদ বিসম্বাদ চলিত। উভয়ে উভয়কে—ঠকাইবার চেষ্টা করিতেন। এ সম্বন্ধে, একটী চিত্তরঞ্জক গল্পের উল্লেখ করা বোধ হয়, এস্থলে অপ্রাসঙ্গিক হইবে না। গল্পটা এই—একদিন এক ব্রাহ্মণ, একটী ছোট পাথরবাটী লইয়া, রাজা নবকৃষ্ণের বাটতে গিয়া, তৎপুত্ৰ গোপীমোহন বাবুকে বলেন—“আমার ছেলের কাণ পাকিয়াছে, একটু পচা আতর যদি দেন—তাহ হইলে তাহার কাণে দিই।” রাজকুমার সরলচিত্ত ব্রাহ্মণকে, আতরের জন্য বাট আনিতে দেখিয়া, আমোদ করিয়া বলিলেন,—“ঠাকুর । চূড়ামণিবাবুর নিকটেই এইরূপ আতর আছে, কিন্তু তিনি যে রকম উচু মেজাজের লোক, আপনি অত ছোট বাট হাতে করিয়া গেলে, হয়ত তিনি বিরক্ত হইতে পারেন। যদি তার কাছে যান—ত একটা কলসী লইয়া যাইবেন।” সরলচিত্ত ব্রাহ্মণ, রহস্য বুঝিতে না পারিয়া—তাহাই করিলেন। চূড়ামণি বাবু-তখন তৈল মাখিতেছিলেন। ব্রাহ্মণের কথা শুনিয়া, পুত্ৰ কালীপ্রসাদকে ডাকাইয়া বলিলেন,-“আগে গন্ধী (অতিরওয়াল ) ডাকাইয়া, এই ব্রাহ্মণকে এক কলস আতর দাও, পরৈ আমি স্বান করিব।” ব্রাহ্মণের সম্মুখেই আড়াই হাজার টাকার অস্তির কিনিয়া, তাহার কলসী ভরিয়া দিয়া বলা হইল—“দেখ ঠাকুর । গুপী ছেলেমাহুষ। তুমি নবকে গিয়া এই আতর দেখাইয়া, আবার আমার নিকট লইয়া আইস ” চূড়ামণিবাবু বয়োজ্যেষ্ঠ। এই জন্ম মহারাজ নবকৃষ্ণকে “নব" বলিয়া ডাকিতেন । - ব্রাহ্মণ রাজবাটীতে গিয়া, সেই আতর-ভরা কলসী দেখাইয়া আসিলেন । তিনি ফিরিয়া আসিলে, চূড়ামণি দত্ত এই আতর-ঘটিত সমস্ত রহস্য ভাঙ্গিয়া দিয়া সেই ব্রাহ্মণকে বলিলেন—“নব আমাকে অপ্রস্তুত করিবার জন্যই, কলসী দিয়া পাঠাইয়াছিল। তা সে আমাকে কোনরূপে ঠকাইতে পারিল না। তা ঠাকুর । এত টাকার আতর লইয়া তুমি কি করিবে ? তোমায় নগদ আড়াই হাজার টাকা—যাহা এই আতরের মূল্য, তাহাই দিতেছি।” ব্রাহ্মণ, টাকা লইয়া অতি আনন্দিত চিত্তে আশীৰ্ব্বাদ করিতে করিতে চলিয়া গেলেন। কিন্তু জেদে পড়িয়া কেবল প্রতিদ্বন্দিতার জন্ত, চূড়ামণি বাবুর পাচহাজার টাকা খরচ হইয় গেল । আর একটা গল্প এই—একবার কোন পারিবারিক অহুষ্ঠানে, চূড়ামণি দত্তের কন্যা, রাজবাটীতে নিমন্ত্রণ রাথিতে যান। তাহার অন্ধুরীতে একখানি