পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/২২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>br२ কলিকাতা সেকালের ও একালের । ১২৭- খ অৰে সপ্তগ্রাম দর্শন করিয়া যান। সে সময়ে বাণিজ্য-ব্যাপদ সপ্তগ্রামের অবস্থা অতি সমুন্নত । কবিকঙ্কণের চওঁীতে বর্ণিত, সপ্তগ্রামের বিবরণের সহিত, ফ্রেডরিকের লিখিত এই বিবরণ, একই ভাবে সপ্তগ্রামের ঐশ্বৰ্য্য—জ্ঞাপক। এতদ্ভিন্ন ডি, লেইএট, এডমিরাল ওয়ারউইক প্রভৃতি প্রাচীন লেখকগণ, সকলেই সপ্তগ্রামের বাণিজ্য ঐশ্বৰ্য্যের কথা বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন। সপ্তগ্রামের গঞ্জে, রেশম, কাপাস, গালা, চিনি, কার্পাসবক্স ও চাউল প্রভৃতির আড়ত ছিল। এই সমস্ত বাণিজ্য দ্রব্য, ইউরোপের নানাবন্দর, নীনাদেশে বিক্রয় করিবার জন্য, সৰ্ব্বজাতীয় ইউরোপীয় বণিকেরা এই সাতগীর বন্দরে উপস্থিত হইয়া, বিশালকীয়া স্বরস্বতী বক্ষ, নানাবর্ণের পোত-শ্রেণীতে সুশোভিত করিত । ইতিহাসের কাহিনীতে প্রকাশ, যে ভাস্কোডিগমা নামক এক পৰ্টুগীজ নাবিক, কেপ-অব-গুড হোপ বা উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরিয়া, সৰ্ব্বপ্রথমে সমূদ্রপথে ভারতবর্ষে আগমন করেন। ১৪৯৮ খঃ অস্বের, ২৬ আগষ্ট তারিখে তিনি কালিকটে উপস্থিত হন। ১৪৯৯ থ: অব্দে তিনি স্বদেশে প্রত্যাগমন করেন। এই সময় হইতে, পটুগীজ ব্যবসায়ীগণ, ভারতক্ষেত্রে বাণিজ্য করিতে আরম্ভ করেন। ভারতোপকূলে গোয়া, সিংহল, মলাক্কাদ্বীপ, ও অরমজু বন্দরে পটুগীজগণ স্থানাধিকার করিয়া, বাণিজ্য-কুঠী নিৰ্ম্মাণ করেন। আবুকার্ক নামক একজন সাহসী সেনানীর বাহুবলেই, এই সমস্ত ক্ষুদ্র অধিকার স্থাপিত হয় । ইংরাজগণ, লর্ড ক্লাইভকে যে চক্ষে দেখিয়া থাকেন, আবুকার্কের এই বীরত্বের জন্য, পটুগীজেরা তাহাকে সেই ভাবেই দেখিত। ১৫১৫ খ, অন্ধের ১৬ ডিসেম্বর, আবুকার্ক গোয়াতে প্রাণত্যাগ করেন। আবুকার্কের পর আরও কয়েকজন পটুগীজ বাণিজ্যাধ্যক্ষ, ভারতে পটুগীজ প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করেন । মহ। গৌরবাম্বিত, সমাজ ও ধৰ্ম্মসম্বন্ধে সমদৰ্শী, সম্রাট আকবর যখন “দীন ইলাহি” নামক নূতন ধর্শের প্রচার চেষ্টা করেন, সেই সময়ে তিনি পূঠ সম্বন্ধে, কতকগুলি সত্য অবগত হইবার জন্য, তিনজন পটুগীজ পাদরীকে তাহার রাজসভায় আনয়ন করেন। মহা পণ্ডিত আবুলফজল ইহাদের একজনকে পাদরী রডাফ, বলিয়া উল্লেখ করিয়াগিয়াছেন। ইহার প্রকৃত নাম একোয়াভিভ। আকবরের সময়ে, পটুগীজগণ সৰ্ব্ব প্রথমে বঙ্গদেশে বাণিজ্যার্থে প্রবেশ করে । হুগলীর উপকণ্ঠে, বাণ্ডেলই তাহীদের প্রখম আশ্রয়ভূমি। এই বাণ্ডেল সম্ভবতঃ “বন্দর” শব্দের অপভ্রংশ।