পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/২৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৪৮ কলিকাতা সেকালের ও একালের মোটের উপর কথা হইতেছে এই—বিলাতের কৰ্ত্তাদের প্রধান লক্ষ এদেশে বাণিজ্য—ও তদ্বারা অর্থলাভ। মোগল তখন দেশের হর্ভ-কঞ্জ বিধাতা । কুম্ভীরের সহিত বিবাদ করিয়া, জলে বাস যেরূপ অসম্ভব—সেইরূপ মোগলের সহিত শক্রতা করিয়া—এদেশে বাণিজ্য করাও অসম্ভব। কিন্তু হেঞ্জেসের এ আত্মরক্ষার প্রস্তাব একবারে উপেক্ষিত হয় নাই। কথাট বিলাতের কৰ্ত্তাদের অনেকটা মনে লাগিয়াছিল। কিন্তু মোগলশক্তির সহিত কোন সংঘর্ষ উপস্থিত হইলেই, ইংরাজের প্রতিপক্ষ ব্যবসায়ী দিনেমারের মোগলের সাহায্য করিবে । কেবলমাত্র বোম্বাই হইতে মোগলের সচিত শত্রুত করা চলিতে পারে। বাঙ্গালার এরূপ একটা কোন কিছু করিতে হইলে, চট্টগ্রামের মত সমুদ্রতীরবর্তী স্থানই অtশ্রয়কেন্দ্র করা উচিত। কিন্তু তাহার পথেও বহু বাধা বিঘ্ন । যাহা হউক—পরিশেষে নিতান্ত অসহ্য হইয়া পড়ায়, বিলাতের কৰ্ত্তারা মোগলের সহিত শক্রতা করিতে মনস্থ করিলেন । বাণিজ্য-প্রতিভার সঠিত বাহুর শক্তিকে মিলিত করিবার সঙ্কল্প স্থির হইয়া গেল । ব্যাপায়টা এই সময়ে খুব অগ্রসর হইল। বিলাতের কৰ্ত্তারা এজন্য সম্রাট দ্বিতীয় জেমসের সহায়তা ও অনুমতি প্রার্থনা করিলেন । ইংলণ্ডেশ্বর জেমস্ ইহাতে আপত্তি করিলেন না । তাহার আদেশে— মোগলরাজ্য আক্রমণ জন্ত, নৌ-বাহিনী সংগৃহীত হইল। মুরাটের কৰ্ত্তাদের উপর তখনিই আদেশ হইল, “তোমরা সুরাট ছাড়িয়া বোম্বেতে একত্রিত হও । মোগলের অন্তগামী ও বহির্গামী জাহাজসমূহ আক্রমণ ও লুণ্ঠন কর।” এইরূপ শক্ৰতা করি বার জন্য অনেকগুলি যুদ্ধ জাহাজ ও বঙ্গদেশে প্রেরিত হইল। হুকুম হইলযে জাহাজগুলি প্রথমে উড়িষ্যার উপকূলে বালেশ্বরে পৌঁছিবে। তথা হইতে হুগলী কাশিমবাজার প্রভৃতি স্থানের কৰ্ম্মচারীদের সেই জাহাজে তুলিয়া লইয়া সরাসর চট্টগ্রাম যাত্রা করিবে । হুকুমটা এতদূর পর্য্যন্ত অগ্রসর হইল —যে, যে সকল দুর্গ, নগর বা কেরা এ যুদ্ধক্ষলে ইংরাজেরা বাহুবলে "ং" করিবেন–জবচাণক তাহার গবর্ণর বা শাসনকৰ্ত্ত নিযুক্ত হইবেন।

  • Hedges Diary. 11. 51 to 58.