পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৬৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ల98 কলিকাতা সেকালের ও একালের । বঙ্গদেশে রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। ইহার পর মীরজাফর, মীরকাশেম প্রভৃতি যে সমস্ত নবাব, বাঙ্গালার মসনদে উপবেশন করিয়াছিলেন, র্তাহীদের সকলেই ইংরাজের সহায়তায় বাঙ্গালার সিংহাসন পাইয়াছিলেন। ক্লাইভ সহায় না থাকিলে মীরজাফর দুই এক মাসও রাজত্ব করিতে পারিতেন না। মীরকাসেম ধরিতে গেলে, বাঙ্গালার শেষ স্বাধীন নবাব। র্তাহার স্বাধীন প্রকৃতি, প্রজাপ্রীতি ও ন্যায়নিষ্ঠার জন্য ইংরাজের সহিত তাহার বিবাদ বাধিল । ইহার ফলে, মীরকাশেমের বাঙ্গলা ত্যাগ করিয়া পলায়ন, পাটনার হত্যাকাণ্ড, আর বঙ্গের শাসন তন্ত্রের ঘোরতর পরিবর্তন । এ সমস্ত ঘটনা, বাঙ্গলার সুবৃহৎ ইতিহাসে বর্ণিত আছে। শিক্ষিত বাঙ্গালী মাত্রেই সে সব কথা জানেন, সুতরাং এ স্থলে তাহর পুনরাবৃত্তি নিম্প্রয়োজন। বাঙ্গালার দেওয়ানী-সনদ লাভ করিয়া, ইংরাজের অবস্থা নূতন দিকে ফিরিয়া দাড়াইল। ধরিতে গেলে, তখন ইংরাজ-কোম্পানীই বাঙ্গালা, বিহার, উড়িষ্যার মালিক। রাজস্ব-বিভাগের কর্তৃত্ব র্ত্যহাদের হস্তে। নবাব তাহদের বাহুবলে সুরক্ষিত ও সকল বিষয়েই মুখাপেক্ষী। পলাশী-রণপ্রাঙ্গণে, সমর-প্রতিভার বিকাশ করিয়া, বঙ্গে ইংরাজধিকারের ভিত্তিস্থাপন করিয়া, লর্ড ক্লাইভ যথাসময়ে স্বদেশে চলিয়া গেলেন। এখানে রহিল—র্তাহার কীৰ্ত্তি ও যশগৌরব, বাঙ্গলার ভাগ্য পরিবর্তন, রাষ্ট্র-বিভাগে বিশৃঙ্খলা—আর সমগ্র ভারত ব্যাপিয়া ইংরাজের সমর-শক্তি ও বাহুবলের উদ্ধাম প্রতিধ্বনি। এ ভীষণ প্রতিধ্বনি শুনিয়া, দিল্লীর হীনতেজ সম্রাট পৰ্য্যন্ত বিচলিত হইলেন। কিন্তু সমগ্র বঙ্গ ব্যাপিয়া তখন সকল বিষয়েই একটা বিশৃঙ্খলভাব। নবাব ও ইংরাজ-কোম্পানী উভয়েই দেশের শাসনকৰ্ত্তা। রাজস্ব আদায়ে মহা বিশৃঙ্খলা। বিলাতের কৰ্ত্তাদের কাণে, এই সব বিশৃঙ্খলার কথা পৌছিল। র্তাহারা এই দেশব্যাপী বিশৃঙ্খলার প্রতিকারার্থে, ওয়ারেণ হেষ্টিংসকে বাঙ্গলার গবর্নর-জেনারেল নিযুক্ত করিলেন। বঙ্গে ইংরাজাধিকার প্রতিষ্ঠার পর, হেষ্টিংসই প্রথম গবর্ণর-জেনারেল । বৎসরে আড়াই লক্ষ টাকা, হেষ্টিংসের বেতন ধাৰ্য্য লইল । তাহার কার্য্যে সাহায্য করিবার জন্ত, একটী মন্ত্রণা-সভাও স্থাপিত হইল। এই মন্ত্রণা-সভার কয়েকজন সভ্য বিলাত হইতে প্রেরিত হইলেন। বিচার-বিভাগে সুশৃঙ্খল জানয়নের জন্ত, কলিকাতায় সৰ্ব্বপ্রথম সুপ্রীমকোর্ট বা প্রধান বিচারণি