পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৭৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ত্রয়োবিংশ অধ্যায় ৭৩৯ কর্তার, গঙ্গাগর্ভের উপরই এই পাচজন দণ্ডিত আসামীর ফাসির ব্যবস্থা করেন । দুই খানা ভড়, পাশাপাশি রাথিয়া, তাহার উপর ফাসিকাষ্ঠ নিৰ্ম্মিত হয়। এরূপ ঘোষণা করিয়৷ দেওয়া হয়—যে হুগলী নদীতে যত জাহাজ আছে—সকল জাহাজ হইতেই একখানি বোট আসিবে ও সেই বোটে সেই জাহাজের লোকজন থাকিবে । নাবিকদের মনে ভয়োৎপাদন করাই এই ব্যবস্থার মূল কারণ। প্রভাতে-ফোর্টউইলিয়াম দুর্গ হইতে একটী কণমানধ্বনি হইল । যেখানে ফালি হইবে, সেইস্থানে বধমঞ্চের উপর একটা হলদে রঙ্গের পতাকা উড়িল । দেখিতে দেখিতে জাহ্নবী বক্ষে নৌকার গাদি লাগিয়া গেল। নদীর উভয় কুলবৰ্ত্তী জাহাজের ডেকও লোক পরিপূর্ণ। বেলা নয়টার সময় একদল সিপাহী বেষ্টিত হইয়। অপরাধীগণকে ওল্ডফোট ঘাটে আনা হয়। তার পর তাহীদের সমভাবে প্রহরী বেষ্টিত করিয়া, সেই ফাসিমঞ্চের উপর লইয়া যাওয়া হয়। যাহা কিছু সে ক্ষেত্রে করণীয় কাজ, তাহ শেষ করিয়া ঠিক ৯টা ২০ কুড়ি মিনিটে আবার এক তোপ পড়িল এবং সেই সঙ্গে পচিজন অপরাধীর ফাসি হইয়া গেল। অপরাধটা সেলার বা নাবিক দলেরই কৃত— সুতরাং তাছাদের সমবৃত্তিসম্পন্ন অন্যান্ত লোকদের মনে ভয় জন্মাইবার জন্য গঙ্গাবক্ষে ফালি দিবার এই অদ্ভুত ব্যবস্থা হয়। আর একটী ঘটনা—ইহা ১৮২৮ খ্ৰীঃ অব্দে ২৪শে জানুয়ারির কথা । ঘটনাট এক ফকিরের ফঁাসি । বলা যায় না কি কারণে, এই ফকির, উইলিয়াম বোচ্যাম্প বলিয়৷ এক সাহেব শিশুকে, হাবড়াঘাটে হত্যা করে। তখন হাবড়ার যে স্থান “স্কুলগ্রাউণ্ড” বলিয়া পরিচিত ছিল, সেইখানে ফাদিকাষ্ঠ নিৰ্ম্মিত হয়। এ ফাসি দেখিবার জন্য অনেক মুসলমান জড় হইয়াছিল—কেন না মুসলমান ফকিরের ফাসী। কিন্তু সমবেত জনতা, অপরাধীকে প্রহরীদের হাত হইতে ছিনাইয়া লইবার কোন চেষ্টাই করে নাই, বরঞ্চ স্থিরভাবে ব্যাপারটা দেখিয়াছিল। তার পর আর এক পেটুকের ফাসির কথা বলিতেছি। কথায় বলে— “ফঁাসির খাওয়া খেয়ে নেওয়া ।” লোকটার ঠিক তাই হইয়াছিল। একজন সমসাময়িক ভ্রমণকারী তাহার পুস্তকে লিখিতেছেন—“আমরা ক্ষণসীর স্থলে উপস্থিত হইলাম। কলিকাতার জেল হইতে কিছুদূরে এক মাঠে কাসির স্থান নির্দিষ্ট হইয়াছিল। কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয় এই, ফাসি দেখিবার জন্য একটও লোক সেখানে উপস্থিত নাই। লোকের মধ্যে কেৰল—আমরা