পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২০
[মহাভারত।
দেবীং সরস্বতীং ব্যাসং ততো জয়মুদীর্যেৎ॥

ব্রাম্ভণের কর্ম্ম নয় লোকের হিংসন।
অল্প দোষে দেখ মোর দুর্গতি লক্ষণ॥
অহিংসা পরম ধর্ম্ম করহ পালন।
ভয়ার্ত্ত জনেরে রক্ষ করিয়া যতন॥
পূর্ব্বে রাজা জন্মেজয় সর্পযজ্ঞ কৈল।
ধরায় সর্পের কুল ব্রম্ভণে রাখিল॥
আস্তিক নামেতে দ্বিজ জরৎকারু-সূত।
যাঁহার চরিত্র-কথা শুনিতে অদ্ভুত॥
রুরু বলে কহ শুনি আস্তিক-আখ্যান।
কিমতে নাগের কুল কৈল পরিত্রাণ॥
কি কারণে সর্পযজ্ঞ কৈল জন্মেজয়।
কহ শুনি মুনিবর ঘুচুক বিষ্ময়॥
মুনি কহে সেই কথা কহিতে বিস্তার।
শুনিবারে চিত্ত যদি আছয়ে তোমার॥
মুনিগণে জিজ্ঞাসিলে কহিবে সকল।
আজ্ঞা দেহ যাব আমি আপনার স্থল॥
এতবলি দিব্যমূর্ত্তি হৈল ততক্ষণে।
অন্তর্ধান হৈয়া মুনি গেল নিজস্থানে॥
বিস্ময় জন্মিল রুরু মনোদুঃখী তাপে।
আপনার গৃহে আসি জিজ্ঞাসিল বাপে॥
প্রমতি বলেন আমি তাহা সব জানি।
আস্তিকের উপখ্যান অদ্ভূত কাহিনী॥
মহাভারতের কথা অমৃতের ধার।
শ্রবণের সুখ ইহা বিনা নাহি আর॥
কাশীরাম দাসের প্রণাম সাধুজনে।
পায় সে পরম প্রীতি ভারত-শ্রবণে॥



জরৎকারুর বিবরণ।

জিজ্ঞাসিল রুরু তবে জনকের স্থান।
প্রমতি বলেন শুন অদ্ভুত আখ্যান॥
জটাচার্ব্ববংশে জন্ম জরৎকারু মুনি।
যোগেতে পরম যোগী ত্রিজগতে জানি॥
স্বচ্ছন্দে ভ্রমিয়া গেল দেশ-দেশান্তরে।
উলঙ্গ উন্মত্ত বেশ সদা অনাহারে॥

একদিন অরণ্যে ভ্রময়ে তপোধন।
এক গোটা গর্ত্ত দেখে অদ্ভুত কথন॥
তার মধ্যে দেখয়ে মনুষ্য কত জন।
উলা মূল এক ধরি আছে সর্ব্ব্জন॥
অপূর্ব্ব দেখিয়া জিজ্ঞাসিল জরৎকারু।
কি কারণে দুঃখ এত তোমআ সবাকার॥
যে উলার মূল ধরিয়াছ সর্ব্ব্জনে।
মূষিক খুঁড়িছে মূল দেখ না নয়নে॥
এক গোটা মূলমাত্র দৃঢ় আছে তৃণে।
এখনি ছিঁড়িবে ইহা ইন্দুর-দংশনে॥
তবে ত পড়িবে সবে গর্তের ভিতর।
এত শুনি পিতৃগণ করিল উত্তর॥
জটাচার্ব্ববংশে আমা সবা উৎপত্তি।
নির্ব্বংশ হইনু তেঁই হৈল হেন গতি॥
ঋষি বলে কেহ বংশে নাহিক তোমার।
বংশ রক্ষা করি করে সাবার উদ্ধার॥
পিতৃগণ বলে মাত্র আছে একজন।
মুর্খ দুরাচার সেই বংশে অভাজন॥
না করিল কুলধর্ম্ম বংশের রক্ষণ।
জরৎকারু নাম তার শুন মহাজন॥
এত শুনি জরৎকারু বিস্ময় হইয়া।
আমি জরৎকারু বলি কহিল ডাকিয়া॥
কি করিব আজ্ঞা মোরে কর পিতৃগণ।
যে আজ্ঞা করিবে তাহা করিব পালন॥
পিতৃগণ বলে কর স্ত্রী-পাণি গ্রহণ।
পুত্র জন্মাইয়া কর বংশের রক্ষণ॥
সর্ব্বশাস্ত্রে বিজ্ঞ তুমি তপস্যা-তৎপর।
পুত্রবন্তে যেই ধর্ম্ম তোমাতে গোচর॥
মহাপূণ্য করি লোক না যায় যথায়।
পুত্রবন্ত লোক সব তথাকারে যায়॥
তেকারণে বিবাহ করহ মুনিবর।
পুত্র জন্মাইয়া আমা সবা রক্ষা কর॥
পিতৃগণ-বাক্যে শুনি বলে জরৎকার।
যত্নে না করিব বিভা কৈনু অঙ্গীকার॥
মোর নামে কন্যা যদি যাচি কাহ দেয়।
তবে সে করিব বিভা আমি সুনিশ্চয়॥