পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


   ত্রাহিমাং পুণ্ডরীকাক্ষ সর্ব্বপাপ হরো হরিঃ।।

 বিরিঞ্চি বলেন শেষ না ভাব এমন।
 দুষ্টের সংসর্গ তব হইবে মোচন।।
 ধর্ম্মেতে তৎপর তুমি বলে মহাবল।
 আপনার তেজে ধর পৃথিবীমণ্ডল।।
 বম্ভার বচনে শেষ পৃথিবী ধরিল।
 গরুড় সহিত ব্রম্ভা মৈত্রী করাইল।।
 ব্রম্ভার আজ্ঞায় গিয়ে পাতাল ভিতর।
 তথা থাকি পৃথিবাই ধরিল বিষধর।।
 তুষ্ট হইয়া ব্রম্ভা তারে জৈল নাগরাজা।
 নাগলোকে দেবলোকে সবে করে পূজা।।
 হেনমতে শেষ তবে ত্যাজি ভাতৃগণে।
 একাকী রহিল সেই ব্রম্ভার বচনে।।
 শেষ যদি গেল সেই বাসুকী চিন্তিত।
 মায়ের শাপেতে সদা অত্যন্ত দুঃখিত।।
 সব ভাতৃগণ লয়ে করেন যুকতি।
 মায়ের শাপেতে ভাই না দেখি নিষ্কৃতি।।
 জনকের শাপেতে আছয়ে প্রতিকার।
 জননীর শাপে নাহি দেখি যে উদ্ধার।।
 ক্রোধ করি জননী যখন শাপ দিল।
 পিতৃ-পিতামহ সব স্বীকার করিল।।
 জন্মেজয়-যজ্ঞে হবে অবশ্য সংহার।
 এখন তাহার ভাই কর প্রতিকার।।
 এতেক বচন যদি বাসুকী বলিল।
 যার যেবা যুক্তি আসে কহিতে লাগিল।।
 এক নাগ বলে আমি ব্রাম্ভণ হইব।
 জন্মেজয়-যজ্ঞে গিয়া ভিক্ষা মাগি লব।।
 আর নাগ বলে আমি রাজমন্ত্রী হৈয়া।
 না দিব করিতে যজ্ঞ মন্ত্রণা করিয়া।।
 আর নাগ বলে কোন্ বিচিত্র সে কথা।
 কেমনে করিবে যজ্ঞ খাব' যজ্ঞ-হোতা।।
 নতুবা খাইব সব ব্রাম্ভণ ধরিয়া।
 দ্বিজ বিনা যজ্ঞ হবে কেমন করিয়া।।
 আমরা সকলে তবে একত্র হইয়া।
 যজ্ঞের সদনে সব থাকিব বেড়িয়া।।
 যাহারে দেখিব তারে করিব দংশন।
 ভয়েতে করিবে রাজা যজ্ঞ নিবারণ।।
 এতেক বলিল যদি সব নাগগণে।
 বাসুকী বলিল নাহি রুচে মম মনে।।
 আমা সবে মারিবারে যে শক্তি ধরিবে।
 কাহার শকতি ভাই তাহারে হিংসিবে।।
 মায়ের বচন কভু নহে ত লঙ্ঘন।
 যত যুকতি করিলে সবে সব অকারণ।।
 মায়ের বচন আর দৈবের লিখন।
 অবশ্য হইবে যজ্ঞ না হয় খণ্ডণ।।
 পাণ্ডুবংশে জনমেজয় হইবে উৎপত্তি।
 তাঁর যজ্ঞ হিংসিবেক কাহার শকতি।।
 আছয়ে উপায় এক শুন সর্ব্বজন।
 সাবধানে শুন সবে ব্রম্ভার বচন।।
 পুত্রগণে যখন জননী শাপ দিল।
 নাগগণ তখনি ব্রম্ভারে জিজ্ঞাসিল।।
 হেন শাপ কেহ দেয় আপন নন্দনে।
 আর আছে হেন কোন এ তিন ভূবনে।।
 ব্রম্ভা বলে মাতৃশাপ পুত্রে নাহ বাধে।
 সবে মিলে স্বীকার করিল নাগবধে।।
 ধর্ম্মের অনুগত তাহে যেই নাগ হবে।
 জন্মেজয়-যজ্ঞে মাত্র সেই রক্ষা পাবে।।
 আছয়ে উপায় তার শুন নাগগণ।
 জটাচার্ব্ব-বংশে জরৎকারু যে নন্দন।।
 তাহার বিবাহ হবে জরৎকারী সনে।
 বাসুকীর ভগ্নী সেই বিখ্যাত ভূবনে।।
 জরৎকারী গর্ভে হবে আস্তিক কুমার।
 সেই পুত্র নাগকূল করিবা নিস্তার।।
 এইরূপে ব্রম্ভা আজ্ঞা করিল নাগগণে।
 এই সব কথা আমি শুনেছি শ্রবণে।।
 আর যত প্রকার করহ ভাই গণ।
 না হইবে সাধ্য কিছু সব অকারণ।।
 সেই জরৎকারী এই ভগিনী আমার।
 জরৎকারু বিবাহ করিল্এ সে নিস্তার।।
 এতেক বলিল এলাপত্র বিষধর।
 সাধু সাধু কহি সবে করিল উত্তর।।
 তবেত কতক দিন সমুদ্র মথিল।
 মন্দর মন্থন দড়ি বাসুকী হইল।।