পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৪৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সভাপর্ব। ] । ধৃতরাষ্ট্র বলে শুন মস্ত্রি চূড়ামণি । নগরেতে মহাশব্দ ক্রন্দনের ধ্বনি ॥ ছেন বুঝি কান্দে সবে পাণ্ডব কারণ । কহ শুনি কিরূপেতে যায় তার বন ॥ ক্ষভা বলে যুধিষ্ঠির যায় ইেটমুখে । সবিষাদ চিত্তে বসনেতে মুখ ঢাকে ॥ দুষ্ট বাহু বিস্তারিয়া যায় বৃকোদর । জশুরুঞ্জলে অর্জনের বহে জলধর ॥ নকুল যাইছে ছাই সৰ্ব্বাঙ্গে মাখিয়া । সহদেব যায় মুখে কর আচ্ছাদিয়া ॥ দ্রুপদনন্দিনী যায় সবার পশ্চাতে । শকুলিত কেশভার কান্দিতে কান্দিতে ॥ ধৌম্য পুরোহিত সঙ্গে করে বেদধ্বনি । বিষাদিত চিত্ত অতি কুশমুষ্টিপাণি ॥ পুতরাষ্ট্র বলে কহ ইহার কারণ । এরূপে পাণ্ডব কেন যাইতেছে বন ॥ বিদুর কহেন রাজা কহি দেহ মন । কপটে সৰ্ব্বস্ব নিল তব পুত্ৰগণ ॥ এমন করিল কৰ্ম্ম নহিল উচিত । সদা যুধিষ্ঠির তব পুত্ৰগণে প্রীত ॥ কদাচিত ভস্ম যদি হয় নেত্রানলে । এই হেতু হেঁটমুখে ঢাকিয়া অঞ্চলে ॥ ভীম বলে মম সম নাহিক বলিষ্ঠ । সংসারে যতেক বীর সকলের শ্রেষ্ঠ”। চহার উচিত শাস্তি করিব আসিয়া । এত বলি যায় বীর ভুজ প্রসারিয়া ॥ অৰ্জুনের অংশ্রমজল বহে অনিবার । সেইমত বরষিয়ে অস্ত্র তীক্ষ্ণধার ॥ প্রত্যক্ষতে ভবিষ্যতে সহদেব জানে । ব°শনাশ জানি হস্ত দিয়াছে বদনে ॥ এই মত ভস্ম আমি করিব বৈরীরে । সই হেতু নকুল ভস্ম মাখিল শরীরে ॥ ধাজ্ঞসেনী দেবী যায় করিয়া রোদন। এইমত কান্দিবেক সৰ্ব্ব নারীগণ ॥ কুশ হস্তে ল’য়ে যায় ধৌম্য তপোধন । সঙ্কল্প করিব কুরু খাদ্ধের কারণ ॥ -ऋ স্থখপ্রসন্নবদনাং ক্ষেরানন সরোরুহাং । r o | ২৯ কুরুসভায় নারদ ঋষির জাগমন । হেনকালে উপনীত ব্রহ্মার তনয় । সভামধ্যে কছেন নারদ মহাশয় ॥ আজি হৈতে চতুর্দশ বৎসর সময় । শ্ৰীকৃষ্ণ সহায়ে করিবেৰ কুলক্ষয় ॥ সবাই মরিবুে দুর্যোধন অপরাধে । . নিঃক্ষত্র হইবে ক্ষিতি ভীমাৰ্জ্জুন ক্রোধে { এত বলি মুনিবর হৈল অন্তৰ্দ্ধান । শুনি কর্ণ দুর্য্যোধন হইল কম্পমান ॥ নারদের কথা শুনি হইল অস্থির । অকূল সমুদ্রে যেন ভূবিল শরীর ॥ উপায় না দেখি ইথে কি হইবে গতি । বিচারি শরণ নিল দ্ৰোণ মহামতি ॥ পাণ্ডবের তয়ে প্রতু কম্পয়ে শরীর । আপনি অভয় দিলে হয় মন স্থির ॥ দ্রোণ বলে পাণ্ডুপুত্র অবধ্য আমার । দেব হৈতে জন্ম পঞ্চ পাণ্ডুর কুমার ॥ পাণ্ডব দেবতা আমি হই যে ব্রাহ্মণ । ব্রাহ্মণের পূজ্য দেব জানে সৰ্ব্বজন ॥ | l i ! s | তথাপি করিব আমি যতেক পারিব । তোমা সবfকারে আমি ত্যাগ না করিব ॥ দুৰ্জ্জয় পাণ্ডব সব যাইতেছে বন । চতুর্দশ বৎসরে করিবে আগমন ॥ ক্রোধে আসিবেন তারা সবার উপর । নিশ্চয় দেখি যে ঘোর হইবে সমর ॥ যতেক করিলা সৰ্ব্বৰ্গ আমার কারণ । নিকট হইল দেখি আমার মরণ ॥ রাজযজ্ঞে পৃষ্টদ্যুম্ন লয়েছে উৎপত্তি । আমার মরণ হেতু .. বিখ্যাত ক্ষিতি ॥ সেই দিন হৈতে ভয় ছৈয়াছে অfমার । দ্বন্দ্ব হ’লে পাণ্ডবের হইবে সহায় ॥ চতুর্দশ বৎসরান্তে অবশু মরণ । বুঝি যাহে শ্রেয় হয় শীঘ্ৰ দেহ মন ॥ তোমা সবাকার মৃত্যু হৈল সেইকালে । সভায় যখন কৃষ্ণ ধরিয়া আনিলে ।