পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৭২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নারীপৰ্ব্ব । ] তোমার জম্মিবে ক্রোধ ইহা অনুমাণি । গঠিত লোহার ভীম দিনু নৃপমণি ॥ বিষাদ না কর তুমি শাস্ত কর মন । ভীমেরে মারিলে নাহি পাবে দুর্য্যোধন ॥ আর কেন অপযশ রাখিবা ঘুষিতে । শুদ্ধচিত্ত হও রাজা জানাই তোমাতে ॥ আপনি কহিলা পূৰ্ব্বে শুনহ রাজন। আপন তনয় যেন পাণ্ডুর তেমন ॥ তবে কেন হেন কৰ্ম্ম করিলা রাজন । বুঝিলাম খল কভু নহে শুদ্ধ মন ॥ কোন অংশে পাণ্ডবের নাহি অপরাধ । আপনি করিলা তুমি নিজ কৰ্ম্ম বাদ ॥ ভীমে বিষ খাওয়াল রাজা দুর্য্যোধন । জতুগৃহে রাখিলেন পাণ্ডুর নন্দন ॥ তবে শুকুনিরে আজ্ঞা দিল নরপতি । পাশা খেলাইল যুধিষ্ঠিরে সংহতি ॥ • প্রতিজ্ঞা করিয়া ধৰ্ম্ম সৰ্ব্বস্ব হারিল । দুঃশাসন দ্রৌপদীর চুলেতে ধরিল ॥ আপনি অনীতি করিলেক দুৰ্য্যোধন । জয়দ্ৰথে দিয়া করে দ্রৌপদী হরণ ॥ তথাপিও পাণ্ডবের ক্রোধ না জন্মিল । তবে ভূর্য্যোধন দুর্ববাসারে পাঠাইল ॥ আপনি সকল জান তুমি মহাশয় । কিছু দোষ নাহি করে পাণ্ডুর তনয় ॥ অন্যায় করিল যুদ্ধ তোমার নন্দন । অভিমনু বেড়িয়া মারিল সগুজন ॥ পশ্চাতে পাণ্ডব পরাক্রম প্রকাশিল । প্রতিজ্ঞ কারণে সৰ্ব্ব কৌরবে মারিল ॥ বেদশাস্ত্র জান তুমি আগম পুরাণ । যজ্ঞান নাহিক কেহ তোমার সমান ॥ আপনি জানহ পাণ্ডবের যত দোষ । তবে কি লাগিয়া কর এ সব আক্রোশ ॥ ভাষ্ম দ্ৰোণ বিছর যতেক বুঝাইল । ইন্টমতি দুৰ্য্যোধন বাক্য না শুনিল । অধিক সকল গুণে হয় পঞ্চভাই। ੋੜ সকল জান কি হেতু বুঝাই ॥ পূর্ণেন্দুসদৃশদ্যুতিং স্বন্দরং পুণ্ডরীকাক্ষ— 이 জানিয়া না জান তুমি সকল উহার । কি কারণে নাহি বুঝ উচিত বিচার ॥ কেবল পুত্রেরে চাহি কর অপকৰ্ম্ম । ভীমেরে মারিয়া কেন বিনাশিবে ধৰ্ম্ম ॥ কি দোষ করিল ভীম বলহ রাজন । না বুঝিয়া কেন কর হেন আচরণ ॥ কদাচিত পাণ্ডবেরে ক্রোধ না করিহ । অধৰ্ম্ম হইবে মম বচন পালহ ॥ কৃষ্ণের বচন শুনি অন্ধ নরপতি । পাণ্ডবে আলিঙ্গিল হইয়া হৃষ্টমতি ॥ গান্ধারীর মন আছে শাপিব পাণ্ডবে । হেনকালে বলিলেন বাস্থদেব তবে ॥ শুন দেবী পাসরিলে তুমি পূৰ্ব্বকথ। । সতীর বচন কৰ্ভু না হয় অন্যথা ॥ যাত্রাকালে তোমা জিজ্ঞাসিল দুর্য্যোধন । কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধেতে জিনিবে কোনজন ॥ পাণ্ডবের সঙ্গে যাই যুদ্ধ করিবারে । জয় পরাজয় কার বলহ অামারে | তবে সত্য কথা তুমি কহিলে তখন । যথা ধৰ্ম্ম তথা জয় শুন দুর্য্যোধন ॥ তোমার বচন যদি অন্যথা হইবে ।. তবে কেন চন্দ্র সূৰ্য্য আকাশে রহিবে ॥ সে সব বচন সত্য মম মনে লয় । অতএব যুদ্ধ জিনে পাণ্ডুর তনয় ॥ ত্যজহ সকল ক্রোধ আমার বচনে । পুত্ৰ ভাব কর পঞ্চ পাণ্ডুর নন্দনে ॥ এত যদি বাসুদেব কহিলেন বাণী । যোড়হাতে বলিলেন অন্ধ রাজরাণী ॥ যত কিছু মহাশয় বলিলে বচন । বেদের সমান তাহা করিনু গ্রহণ ॥ কিন্তু হৃদয়ের তাপ সহিতে না পারি । একশত পুত্র মোর গেল যমপুরী ॥ ত্যজিলাম সব ক্রোধ তোমার বচনে । পুত্ৰ সম স্নেহ হৈল পাণ্ডুর নন্দনে ।